কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। এ মাসে একটি নফল আদায় করলে অন্য মাসের একটি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আর একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। সঙ্গতকারণেই এ মাসে অন্য মাসের তুলনায় বেশ পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত হয়। কুরআনও সে দাবী রাখে।
কুরআন তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করল, তার বিনিময়ে সে একটি নেকী অর্জন করল। উক্ত একটি নেকি দশটি নেকির সমতুল্য গণ্য করা হবে। আমি বলছি না, যে আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। (তিরমিজি) অর্থাৎ উদ্দেশ্য হচ্ছে, অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে যেমন পুরা আমলকে একটি বলে গণ্য করা হয়, কুরআনের ক্ষেত্রে সেরূপ নয়, বরং এখানে আমলের অংশবিশেষকেও পূর্ণ আমল হিসেবেই গণ্য করা হয়। এ জন্য প্রতিটি হরফের পরিবর্তে একটি করে নেকি হবে। আর প্রতিটি নেকির বিনিময়ে দশটি করে সওয়াব পাওয়া যাবে।
অপর এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোহায় পানি লাগলে যেরূপ মরিচা পড়ে, তদ্রƒপ মানুষের কলবের মধ্যেও মরিচা পড়ে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তা পরিস্কারের উপায় কী? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ করা ও কুরআন তেলাওয়াত করা।
অর্থাৎ অতিমাত্রায় পাপ করলে ও আল্লাহর জিকির গাফেল হলে কলবের মধ্যে মরিচা ধরে। কুরআন তেলাওয়াত ও মৃত্যুর স্মরণ তা পরিস্কারের জন্য রেতের কাজ করে। অন্তর ঠিক আয়নার মতো। তা যত অপরিস্কার হবে তাতে আল্লাহর মারেফত কমই অর্জন হবে। আর তা যত বেশি স্বচ্ছ ও পরিস্কার হবে মারেফাতের আলোকে তা তত বেশি উদ্ভাসিত হবে।
একবার হযরত আবু যর গিফারি রা. আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে কিছু নসিহত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পরহেজগারি অবলম্বন কর। কারণ তা সমস্ত নেক কাজের ভিত্তিস্বরূপ। তিনি পুনরায় আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আরও কিছু উপদেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সবসময় কুরআন তেলাওয়াত কর। কারণ তা দুনিয়াতে তোমার জন্য আলোকস্বরূপ এবং আখেরাতে সঞ্চিত ধনস্বরূপ।
কুরআন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। যেমন হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে দিনের বেলায় খানাপিনা হতে বিরত রেখেছি। কাজেই তার বিষয়ে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে আল্লাহ! তাকে আমি রাত্রি বেলায় নিদ্রা হতে বিরত রেখেছি। কাজেই আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। এমতাবস্থায় আল্লাহ পাক উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন।
হযরত সাঈদ বিন সুলাইম রা. হতে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে কুরআনের চেয়ে বড় সুপারিশকারী আর কেউ হবে না। কোন নবীও নয় এবং কোন ফেরেশতাও নয়।
কুরআন তেলাওয়াতের সবচেয়ে বড় লাভ হল, এর দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কুরআনের আয়াত, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে। (সূরা আল আনফাল-২)
কুরআনের কারণেই শবে কদরের এতো কদর। কুরআনের কারণেই রমজানের এতো মর্যাদা। কুরআনের সাথে সম্পর্ক করলে আমাদেরও মর্যাদা অধিক বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কুরআনের সাথে সম্পর্ক করার তাওফিক দান করুন।
লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী