কুয়ালালামপুর, লাংকাবি ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণ Ñ একটি মনোরম অভিজ্ঞতা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ড. কানাই লাল রায়


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মালয়েশিয়ার জাতীয় পাখি ঈগল কি না জানি না। কিন্তু লাঙ্কাবিতে প্রচুর ঈগল দেখা যায়। তাছাড়াও, লাংকাবি-তে সমুদ্রতীরে স্থাপিত সুউচ্চ এবং ধাতু নির্মিত ঈগল মূর্তি আমাদের এই ধারণাই দৃঢ় করে। সুপ্রশস্ত ঈগল স্কয়ার একটি অতি মনোরম দর্শনীয় স্থান এবং প্রায় সমগ্র লাংকাবি থেকে এই ঈগল স্তম্ভটি দেখা যায়। উল্লেখ্য, ঈগল স্কয়ার দর্শনের আগে আমাদের ঈড়পড় ঠরষষধমব নামে একটি স্থানে আনা হলো, ‘টহফবৎ ধিঃবৎ ড়িৎষফ’ অর্থাৎ ‘জলের নীচে জগৎ’ দেখানোর জন্য। বিশাল অ্যাকুইরিয়ামে সমুদ্র তলদেশের ডলফিন প্রভৃতি যাবতীয় সামুদ্রিক প্রাণীদের রাখা হয়েছে। ৪৫ রিঙ্গিত করে টিকিট। সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। প্রসঙ্গত, আমরা লাংকাবিতে সি-বিচ দেখতে গিয়ে আন্দামান সাগরে স্পিড বোটে করে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেটিও একটি বিচিত্র, লোমহর্ষক ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। স্পিড বোটে দেড় ঘণ্টার মতো সমুদ্র ভ্রমণ। প্রতি জন ৩৬ রিঙ্গিত করে ভাড়া। সম্ভবত আমরা ১৬ জন মতো ছিলাম। প্রত্যেককে একটি করে লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম। স্পিড বোট ছাড়তেই প্রতি মুহূর্তই আমাদের কাছে ভীতিপ্রদ ও ভয়ঙ্কর মনে হলো। মনে হতে লাগলো এই বুঝি সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে স্পিডবোটের তলদেশ ভেঙে গিয়ে স্পিডবোট ডুবে যায়। সমুদ্রের মাঝে কিছু দূর পরপর দ্বীপ। দ্বীপগুলি ঘন প্রাকৃতিক জঙ্গলে পূর্ণ এবং মানুষের আগম্য মনে হলো। একটি দ্বীপ অন্যরকম দেখলাম। সেখানে বেশ প্রশস্ত সৈকতভূমি আছে, কিন্তু মানুষের বসতি নেই। আমাদের স্পিড বোট সেখানে থামলো। অনেকে সৈকতে নেমে ঝিনুক শঙ্খ শামুক ইত্যাদি কুড়িয়ে সংগ্রহ করলেন। যাওয়ার পথে আর একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতেই হয়। হঠাৎ দেখি চারপাশ থেকে প্রচুর ঈগল পাখি আমাদের স্পিড বোটের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। আমরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। কিন্তু স্পিডবোট চালক স্পিডবোটের গতি কমিয়ে দিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসা মুরগি-খাশি প্রভৃতির বর্জ্য মাংসাদি ছুঁড়ে দিতে লাগলেন। ঈগল পাখিরা সেগুলি শূন্যে থাকা অবস্থাতেই ছো মেরে নিয়ে যেতে লাগলো। আমরা জানতে পারলাম এইভাবেই ওরা খাবার সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত। স্পিডবোটের চালকরাও তা জানেন এবং খাসি-মুরগির বর্জ্য সাথে নিয়ে আসেন। অবশেষে আমাদের যাত্রা শেষ হলো এবং স্পিডবোট চালক পূর্বস্থানে ফিরে এলো।
আমরা সফরসঙ্গীরা আবার একত্রিত হলাম। সমুদ্রের সন্নিকটে একটি ফুটপাত মার্কেট আছে। সেখান থেকেও অনেকে কিছু কিছু কেনাকাটা করলেন। সর্বত্র ভরীবফ ঢ়ৎরপব দামাদামির কোন সুযোগ নেই। এমনকি, ফলের দোকানেও। আমরা ফলের দোকানে গিয়ে গ্লাসে রাখা কাটা ফল আম পেপে আনারস ইত্যাদি ফল কিনে খেলাম। দাম ৫ রিঙ্গিত। কাঁঠালের চেহারা একটু অন্যরকম। কাঁঠালের গায়ের কাঁটাগুলি বেশ লম্বা। সজারুর কাঁটার মতো। কিন্তু দোকানি কাঁঠাল কেটে বিক্রি করতে সম্মত না হওয়ায় কাঁঠাল খাওয়া হলো না। যাহোক, ফুটপাত মার্কেটে কেনা-কাটা শেষে আমরা রাত ন’টার দিকে হোটেলের দিকে পায়ে হেটে রওনা হলাম। বেশ কিছুদূর একসঙ্গে আসার পর আমরা ৪ জন অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম এবং তাঁর স্ত্রী। যাহোক, ওই সময় গোলাম আজমের পরিচিত এক বাঙালি শ্রমিক ভদ্রলোকের সঙ্গে আমাদের দেখা হলো। আমরা রাতের খাওয়ার জন্য হোটেল খুঁজছি শুনে তিনি আমাদের একটি বাঙালি হোটেলে নিয়ে গেলেন প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা হাঁটিয়ে। হোটেলটির পরিবেশ নোংরা এবং অপরিচ্ছন্ন। যাহোক, সেখানে আমরা সামান্য কিছু মুখে দিয়ে আমরা হোটেল বিল্লাভিস্তার দিকে রওনা হলাম। তখন বেশ জোরেই বৃষ্টি হচ্ছে, সঙ্গে বাতাস। আমাদের কারও সঙ্গেই ছাতা নেই। আমরা ভিজতে ভিজতে ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ দেখি ফুটপাতের পাশে দুটি আম পড়ে আছে। আমি একটি কুড়িয়ে নিলাম। পরে হোটেলে এসে আমরা দু’জন সেই আম ধুয়ে নিয়ে চাকুর অভাবে দাঁত দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খেলাম। খেতে মোটামুটি। কিন্তু এর আনন্দই আলাদা। পরদিন সকালে ৮.৪০ মি.-এ আমাদের সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট। গাইড বলে দিয়েছেন ৬.৩০ টার মধ্যেই সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে বাসে উঠতে হবে। তাই আমরা রাতেই লাগেজ বেঁধে-ছেদে ঠিক করে রাখলাম। ৬ টার মধ্যেই আমরা লাগেজ সহ নিচে নেমে এলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষকে চাবির কার্ড হ্যান্ড ওভার করলাম। ওই সকালেই ব্রেকফাস্ট মোটামুটি রেডি করা হয়েছিল। আমরা কিছু খেয়ে নিয়ে বাসে গিয়ে উঠলাম। গাইড সারা বিমান বন্দরের ভিতরে এসে আমাদের বিদায় জানালেন।
সিঙ্গাপুর
আগেই বলেছি, লাঙ্কাবি থেকে সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট ছিল ৬ মে সকাল ৮.৪০ মিনিটে। আমরা সকাল ৬.৪৫ মিনিটের দিকে হোটেল বিল্লা ভিস্তা থেকে বাসে এয়ারপোর্টের দিকে যাত্রা করি। প্লেনে সকাল ১০ টার দিকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছাই। বিমানবন্দরের ফর্মালিটি শেষ করে আমরা টুরিস্ট বাসে করে হোটেল মুন ২৩-এর দিকে যাত্রা করি এবং ১১ টার দিকে হোটেলে পৌঁছাই। বিমানবন্দরেই আমরা কিছু ইউএস ডলার সিঙ্গাপুর ডলারে পযধহমব করে নিলাম। আমেরিকান প্রতি ১০০ ডলারে ১৩৬ সিঙ্গাপুর ডলার হিসেবে পাই। হোটেল মুন ২৩-এ আমাদের দু’জনের রুম নং স্থির হয় ৩০৭। হোটেলের রুমে উঠে ¯œানাদি করে ফ্রেস হয়ে দুপুরের খাবারের জন্য কাছাকাছি এক হোটেলে যাই। ১০ ডলারেই আমাদের দু’জনের ভাত, ভেজিটেবলস, মুরগির মাংস ইত্যাদি হয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে আমরা টুরিস্ট বাসে করে শহর ভ্রমণে বের হই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরকে গার্ডেন সিটি বলা যায়। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসার পথে রাস্তার দু’ধারে এবং ডিভাইডারে প্রচুর বয়স্ক গাছ দেখতে পাই। সিঙ্গাপুর পুরো দেশটিই শহর। উঁচু উঁচু ভবনে ভর্তি। সিঙ্গাপুর শহর একটি সুন্দর টুরিস্ট স্পটও বটে। ফলে শহরে বহু সুউচ্চ হোটেল ভবন গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশের এবং অন্যান্য দেশের অনেক উচ্চবিত্ত মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুরে আসেন। ফলে হোটেলের পাশাপাশি বহু সরকারি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, হসপিটাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুর একটি নগর রাষ্ট্র। ১৯৬৩ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়। ১৯৬৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার সঙ্গে একীভূত হয়। কিন্তু ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর প্রজাতন্ত্র (ঝরহমধঢ়ড়ৎব জবঢ়ঁনষরপ) হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ২০১৫ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটি জাঁকজমকের সঙ্গে সুবর্ণ জয়ন্তি উৎসব পালন করে। দেশটির অধিকাংশ লোক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। খ্রিস্টান হিন্দু মুসলমান প্রভৃতি ধর্মের লোকও আছেন। বলা যায় কসমোপলিটন সিটি। দেশটির পতাকায় চাঁদ তারা আছে। জাতীয় প্রতীক হলো সিংহের মুখ ও মৎস্যের দেহ বিশিষ্ট এক অদ্ভূত প্রাণী।
সিঙ্গাপুর আইনশৃঙ্খলার বড় কড়াকড়ির জন্য সুবিদিত। এই দেশটিতে অপরাধ সংগঠনের হারও খুবই কম। বিশ্বের সবচেয়ে কম অপরাধপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় নগর-রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর বরাবরই প্রথম সারিতে থাকে। ভাঙচুরের মতো তুলনামূলক ছোটখাটো অপরাধ করলেও সেখানে বেত্রাঘাতের মতো শাস্তি অবধারিত। কোথাও সামান্য ময়লা-আবর্জনা ফেলাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চুইংগাম আমদানি ও বিক্রি সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যই এমন আইন।
সিঙ্গাপুরে নগণ্য অপরাধে বড় শাস্তির সমালোচনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ২০১৫ সালে জার্মানির দুই নাগরিক মেট্রো ট্রেনে রং ¯েপ্র করে ছবি আঁকার অপরাধে নয়মাসের কারাদ- এবং তিনটি বেত্রাঘাতের শাস্তি পান। আমরা সিঙ্গাপুরে টুরিস্ট বাসে লক্ষ্য করেছি, বাসে বসে সামান্য কিছু খাওয়াও (নোংরা হবার ভয়ে) আমাদের গাইড একদমই পছন্দ করছেন না।
আমরা ৬.৫.১৭ তারিখ বেলা ২:৩০ টার দিকে টুরিস্ট বাসে চড়ে সিঙ্গাপুর শহর পরিভ্রমণে বের হলাম। প্রথমে আমরা এলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গ্লাস গ্রিন হাউস (এষধংং এৎববহ ঐড়ঁংব) পরিদর্শনে। এই বিশাল গ্লাস গ্রিন হাউসের পুরোটাই এয়ার কুলার লাগানো। একে পড়ড়ষবফ পড়হংবৎাধঃড়ৎরবং বা ঠা-া কাঁচের ঘরে রক্ষিত গাছপালার উদ্যানও বলা হয়। ২০১৫ সালে এটি গিনেস ওয়াল্ড রেকর্ডেও (এঁরহহবংং ডড়ৎষফ জবপড়ৎফ) স্থান পেয়েছে। এখানে পাঁচটি মহাদেশের (এশিয়া, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা) ৯টি পৃথক উদ্যান আছে। যাকে ঋষড়বিৎ ফড়সব বা ফুলের গম্বুজও বলে। নানা প্রজাতির বিচিত্র ফুলের সমাহার দেখলে মন-প্রাণ-চোখ জুড়িয়ে যায়। আছে ক্লাউড ফরেস্টে অভ্যন্তরীণ জলপ্রপাত। নানা ধরনের বিচিত্র ক্যাকটাস। এই স্থানটি ‘গার্ডেনস বাই দি বে’ নামেও পরিচিত।
এই অদ্ভুত সুন্দর স্থানটি পরিদর্শনের পর আমরা এলাম ঘরমযঃ ংধভধৎর-তে। সন্ধ্যা সাতটার পর খোলে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। এখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বন্য পরিবেশে নানা ধরনের জীবজন্তু (বাঘ, সিংহ, হায়না, হাতি, গ-ার, জলহস্তী, জিরাফ, হরিণ, মহিষ প্রভৃতি) রাখা আছে। আমরা বনভূমির মধ্য দিয়ে ট্রামে (তিন বগি বিশিষ্ট বাস) চড়ে অন্তত তিন কিলোমিটার পরিভ্রমণ করলাম। ট্রাম চলার সময় রেকর্ডকৃত কণ্ঠে বিভিন্ন বন্যপ্রাণির পরিচয় দেয়া হতে লাগলো। ট্রাম নাম হলেও কলকাতার ট্রামের মতো নয়। কারণ চাকা লোহার নয়, বাসের টায়ারের মতো। পাশাপাশি ৪ সিট এবং বাইরের দিকটা খোলা। হিং¯্র বা অন্যান্য প্রাণীগুলো এমনভাবে রাখা আছে যেন যাত্রীদের আক্রমণ করে ক্ষতি না করতে পারে। প্রাণীগুলোকেও দেখলাম অনেকটা শান্ত স্থির হয়ে আছে। স্বভাবগতভাবে নড়াচড়া করছে না। পরিবেশটাও আলো-আধাঁরি, আলোকৌজ্জ্বল নায়। যাহোক, সিঙ্গাপুরের ঘরমযঃ ঝধভধৎর দর্শন সত্যি এক বিচিত্র মনোরম অভিজ্ঞতা।
৭.৫.১৭ তারিখ সকালে যথারীতি সকালের ব্রেক ফাস্টের পর ৯টার দিকে আবার টুরিস্ট বাসে শহর ভ্রমণে বের হলাম। যাওয়ার পথে শহরের বহু গুরুত্বপুর্ণ স্থান চোখে পড়লো। গাইড বর্ণনা দিতে দিতে চললেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানটি হলো ঝধহফং ঝশু চধৎশ একে গধৎরহধ ইধু ঝধহফং ও বলা হয়ে থাকে।
এখানে বিভিন্ন ফ্লোর বিভিন্ন বিপণি সম্ভারে সুসজ্জিত। আমরা এসকেলেটরের সাহায্যে তিন তলা পর্যন্ত উঠে তারপর লিফটে একেবারে ছাপ্পান্ন তলা ওপরে উঠে গেলাম। তারপরও আমরা সিঁড়ি বেয়ে একেবারে মাথায় অর্থাৎ শেষ প্রান্তে গিয়ে উঠলাম। এত উঁচুতে যে সেখান থেকে প্রায় সমগ্র সিঙ্গাপুর শহর দেখা যায়। এখানেও সুদৃশ্য মনোরম ক্যাসিনো আছে। স্থানগুলো এতই মনোরম আলো ঝলমলে যে মনকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। এক স্থানে দেখলাম ট্যাপের মতো এবং পাশেই ব্যবহারযোগ্য ড়হব ঃরসব ঁংব গ্লাস আছে। সেখানে আপেল জুস, অরেঞ্জ জুস প্রভৃতি জুস রাখা আছে। ট্যাপে চাপ দিলেই ট্যাপের জলের মতো জুস বেরিয়ে আসে। যে যার ইচ্ছা মতো জুস পান করছে। ইচ্ছা করলে কেউ ওয়াটার বটলেও সংগ্রহ করছে। এই সুউচ্চ ঝধহফং ঝশু চধৎশ এর পাশেই চায়না সি। সেখানে জাহাজ, স্টিমার, ট্রলার প্রভৃতি অপেক্ষমান  আছে। এরপর আমরা আবার শহর দেখতে দেখতে হোটেল মুন-এ ফিরে এলাম।
(চলবে)