কৃষি ঋণের অজ্ঞাত গ্রহীতা ১২ হাজার!

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা কৃষি ঋণের প্রায় ১২ হাজার ঋণ গ্রহীতার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলার পরোয়ানা জারির পর ব্যাংক বা আদালতের নোটিশ পৌঁছায় না এসব গ্রহীতার কাছে।
একারণে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সর্তকতার সঙ্গে নতুন করে কৃষি ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০০ কোটি টাকার খেলাপি কৃষি ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রীয় ছয় বাণিজ্যিক ও দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক দেড়-লাখের বেশি সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেছে।
১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসব মামলা করা হলেও ১১ হাজার ৬৮৯ জন ঋণ গ্রহীতার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এসময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মামলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৪টি।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮৫৭টি মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। একইসঙ্গে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ে ১৬৬টি নতুন মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২৫৯ কোটি টাকা আদায়ে ব্যাংকটির মামলা রয়েছে ৭৭ হাজার ৭৬৬টি।
একই সময়ে ব্যাংকটি ৩৪৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা আদায় করেছে। তবে প্রায় ১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ঋণ গ্রহীতা ৪ হাজার ৫১৮ জনকে শনাক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল মাস পর্যন্ত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ১৩২ কোটি টাকা আদায়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৩২ টিতে।
একই সময় পর্যন্ত রাকাবের ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ঋণ গ্রহীতা ২ হাজার ৫৬৫ জনকে শনাক্ত করতে পারেনি।
অগ্রণী ব্যাংকের ২ কোটি ২২ লাখ টাকা আদায়ে ২২ হাজার ৬৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একই সময়ে ১৮০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নতুন করে মামলা হয়েছে ১০টি। তবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আদায়ে ১ হাজার ৫৮১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা ঋণ গ্রহীতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায়ে ১৬ হাজার ৯২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন মামলা হয়েছে ৪৪টি।
একই সময় পর্যন্ত ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার বিপরীতে করা ১ হাজার ৬৯৬টি মামলার আসামি বা ঋণ গ্রহীতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একইভাবে সোনালী ব্যাংকের ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা আদায়ে করা ১৪ হাজার ৪২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৯টি এবং নতুন মামলা হয়েছে ২৩টি। পরোয়ানা দিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি ৯৬০ জন গ্রহীতার ঠিকানা।
এপ্রিল শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকের ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আদায়ে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৩ হাজার ৬৮৯টি।
সূত্র বলছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব মামলা নিষ্পত্তি করে টাকা আদায়ের উপর জোর দিয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় ব্যাংকের ম্যানেজারদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা কৃষি সমন্বয় কমিটির মামলা পর্যালোচনা সভায়।
এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যাংকগুলোতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
সূত্র : বাংলানিউজ