কেন করবেন যোগব্যায়াম?

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৯, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


যোগব্যায়াম হলো শরীর ও মনের ব্যায়াম। এ ব্যায়াম থেকে শরীর ও মন উভয়ের উপকার হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম চর্চার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ব্যায়াম আপনার শরীরকে নমনীয় করে যেকোনো শারীরিক কাজ সম্পাদনের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। এছাড়া যোগব্যায়ামের অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে। এখানে যোগব্যায়াম শুরু করলে আপনার শরীর-মনে ঘটতে পারে এমন কিছু বিষয় আলোচনা করা হলো।
যোগব্যায়াম সকলের জন্য : আপনি হয়তো যোগব্যায়ামের শিক্ষককে বলতে শুনেছেন যে, যোগব্যায়াম প্রত্যেকের জন্য। কয়েকটি ক্লাস করে আপনি এ বিষয়টির সঙ্গে একমত হতে পারেন। আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার ব্যক্তিত্ব ও লক্ষ্য ঠিক করতে যোগব্যায়ামের স্টাইল বেশ কার্যকর এবং এ ব্যাপারে যোগব্যায়ামের শিক্ষকরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আন্তরিক সহায়তা করে থাকে। ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অবস্থিত স্যাটভা ইয়োগা স্টুডিওস ও স্যাটভা ইয়োগা অনলাইনের স্বত্ত্বাধিকারী আলি ভালদেজ বলেন, ‘অনেক লোকে ভয় পান যে তারা যোগব্যায়ামে ভালো হতে পারবেন না। কিন্তু তাদের এ ধারণা অমূলক। যোগব্যায়াম হলো এমন একটি ব্যায়াম যা প্রত্যেক লোকের জন্য মানানসই।’ যোগব্যায়ামই হলো একমাত্র ব্যায়াম যা প্রত্যেকের লক্ষ্যার্জনে কিছু না কিছু অবদান রাখতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করবেন : এটা ঠিক যে যোগব্যায়ামের সঙ্গে মনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু তাই বলে এটা আশা করবেন না যে, এ ব্যায়াম শুরু করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করবেন না। এ ব্যায়ামে আপনার শরীরকে প্রসারিত বা টানটান করতে হয়, তাই আপনি প্রথম প্রথম শরীরে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেবলমাত্র কয়েকদিনের জন্য, এ ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে গেলে শারীরিক ব্যথা অনুভব করবেন না। জেনে রাখুন যে যোগব্যায়াম কেবলমাত্র মানসিক প্রশান্তিই দেয় না, এটি শরীরের ওজন কমাতেও ভূমিকা রাখে। যে ব্যায়ামে ওজন কমতে পারে, সে ব্যায়ামে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না তা আশা না করাই ভালো।
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন : কর্মক্ষেত্র, পরিবার এবং এমনকি ওজন হ্রাস ও ফিটনেসের জন্যও আপনার লক্ষ্য থাকতে পারে। আপনি যোগব্যায়াম চর্চা আরম্ভ করলে লক্ষ্য করবেন যে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছেন, যেমনটা অন্যান্য ব্যায়ামের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করতে হয়, যেমন- একজন দৌঁড়বিদ ঠিক করেন যে কত দূর অথবা কোন গতিতে দৌঁড়বে। ভালদেজ বলেন, ‘অন্যান্য ব্যায়ামের মতো যোগব্যায়ামেরও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। যোগব্যায়ামের অন্যতম জনপ্রিয় লক্ষ্য হলো নিজের পায়ের আঙুল স্পর্শ করা অথবা হাতের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো। এ ধরনের লক্ষ্যার্জন সবসময় আনন্দের।’
মানসিক চাপ মুক্ত : নারীদের জন্য যোগব্যায়ামের অন্যতম সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো এটি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অনেক নারী ও পুরুষ মানসিক চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে শ্বাস ধরে রাখে, যা এ সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। ভালদেজ বলেন, ‘যোগব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর আমি কখনো মানসিক চাপময় পরিস্থিতিতে শ্বাস ধরে রাখিনি, আমি গভীর শ্বাস নিয়েছি। আমার বাগদত্তার সঙ্গে ব্রেকাপের পর আমি মানসিক চাপে ভুগেছিলাম, কিন্তু শ্বাসপ্রশ্বাসের যোগব্যায়াম ‘প্রাণায়াম’ আমার ভাঙা হৃদয় মেরামত করতে সাহায্য করেছে।’

আগের চেয়ে ভালো করবেন : ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অবস্থিত ৮ লিম্বস ইয়োগা সেন্টারসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যানি ফাইফি পামার যোগব্যায়াম শুরু করার পর লক্ষ্য করেন যে তার জীবনের অনেক ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে, যার মধ্যে তার অন্যান্য শখ অন্তর্ভুক্ত। তিনি স্নোবোর্ডে পূর্বের তুলনায় ভালো করতে থাকেন। তিনি অনুধাবন করলেন যে যোগব্যায়াম তার মধ্যে প্রাণশক্তি ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। খেলাধুলা অথবা অন্যান্য কাজে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব রয়েছে।
কাজ উপভোগ করতে শুরু করবেন : যোগব্যায়াম কোনো অলৌকিক ব্যায়াম নয়, কিন্তু এটি চর্চা করলে কাজে সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায় অথবা কাজকে উপভোগ করা যায়, কারণ যোগব্যায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বসাতে সাহায্য করে। পামার লক্ষ্য করেছেন যে, যোগব্যায়াম শুরু করার পর তিনি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছেন এবং কাজে পূর্বের তুলনায় ভালো অনুভব করছেন।
নিজেকে জানতে শুরু করবেন : যোগব্যায়াম শুরু করার পর আপনি আপনার শরীরকে আরো ভালোভাবে শুনতে পারবেন। পামার বলেন, যোগব্যায়ামের ক্লাসে শরীর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা ক্লাসের বাইরেও শরীরের খবর রাখতে সহায়তা করে। এর ফলে আপনি শরীরের কোনো সূক্ষ্ম পরিবর্তনও খেয়াল করতে পারবেন। কিছু মারাত্মক রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সূক্ষ্ম লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে, যা যোগব্যায়াম চর্চার ফলে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, কারণ এ ব্যায়াম আপনাকে আপনার শরীরের প্রতি অধিক সচেতন করে তোলে। এছাড়া আপনার ক্ষুধা অথবা ক্লান্তির পেছনে যুক্তিসংগত কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেও সাহায্য করে, যেমন- পরিশ্রমের পর ক্লান্তি স্বাভাবিক, কিন্তু পরিশ্রম ছাড়াই অস্বাভাবিক ক্লান্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রশান্তি অনুভব করবেন : কেবলমাত্র যোগব্যায়ামে অভিজ্ঞরাই মনে শান্তি অনুভব করে না, এমনকি যোগব্যায়ামে নতুনরাও প্রশান্তি অনুভব করতে পারে। যোগব্যায়ামের শুরু থেকেই আপনি শিথিলতা অনুভব করতে শুরু করবেন এবং আপনার মন সতেজতায় উদ্দীপ্ত হতে থাকবে। সময় পরিক্রমায় যোগব্যায়াম চর্চাকারীরা শরীর-মন চর্চার এ ব্যায়ামে আরো আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং তারা মেডিটেশন ও ব্রিদিং টেকনিকের ওপর ফোকাস করেন।
শারীরিক নড়াচড়ায় স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন : যারা যোগব্যায়াম করেন তারা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে শারীরিক নড়াচড়ায় অস্বস্তি অনুভব করেন না, কারণ যোগব্যায়াম চর্চায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নমনীয় হয়। যোগব্যায়াম চর্চাকারীরা শেষপর্যন্ত নিচের পিঠ ও হ্যামস্ট্রিংয়ের টাইটনেস থেকে মুক্তি পান। নিয়মিত যোগব্যায়াম চর্চা করলে কোনো কঠিন কাজে শরীরের নাস্তানাবুদ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যতার কারণে কঠিন কাজ হাতে নেওয়ার উৎসাহ বেড়ে যায়।