কেসিসি’র দায়িত্ব নিলেন খালেক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গতকাল কেসিসির মেয়রের দায়িত্ব নিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তিনি বলেন, গত মেয়াদে তিনি মেয়র থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে কয়েকশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন, সেই অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে। খালেক বলেন, ‘অর্থের অপচয় এবং আত্মসাৎ হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেয়র বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য সরকারি বা বিদেশি অর্থ বরাদ্দ পেতে যোগ্যতার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সদ্য বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ব্যর্থ হয়েছেন।’ সাবেক মেয়র দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং এ ঘটনার নিন্দা জানান।
নগর ভবনের নিচতলায় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) পলাশ কান্তি বালা’র উপস্থিতিতে প্যানেল মেয়র মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাসের কাছ থেকে তালুকদার আব্দুল খালেক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি এসময় বলেন, খুলনাবাসী যোগ্য মেয়রকে এবার বেছে নিয়েছেন। এজন্য খুলনাবাসীকে রাজশাহীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেছেন। বর্তমানেও করছেন। ভবিষ্যতেও করবেন। এজন্য তিনি ইতিমধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনে বরাদ্দ দিয়েছেন। ঠিক একইভাবে রাজশাহীতেও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা সেসব উন্নয়ন কাজে লাগিয়ে নগরীকে আরও সুন্দর ও আধুনিকভাবে গড়ে তুলবো।
এর আগে তিনি নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে নগর ভবনে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মালা পরিয়ে দেন। দায়িত্বভার গ্রহণকালে সিটি মেয়র নিজের দায়িত্ব ন্যায় ও সততার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করে বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা বাস্তবায়নের লক্ষে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে খালের ওপর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের জমিতে যত দামি স্থাপনা থাকুক না কেন তা ভেঙে ফেলা হবে।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘কেসিসি’র সব কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি পরিপূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বীয় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান টুকু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ নুরুল হক, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব মো. মাহবুব হোসেন, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া, কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ