কোন পথে সৌদি আরব || সংস্কার না আধিপত্যের লড়াই?

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সৌদি রাজতন্ত্র এখন সে দেশের জনগণের জন্য বোঝাই বটে। রাজ প্রাসাদের মধ্য থেকেই ভীষণ ষড়যন্ত্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এ ষড়যন্ত্র রক্ত প্রত্যাশি। সৌদিতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন রাজপুত্র, বর্তমান মন্ত্রী এবং কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ী গ্রেফতারের ঘটনা কেবল শুরু। অর্থাৎ আরো নতুন চমক সামনে অপেক্ষা করছে। এ ঘটনার পরই দুই যুবরাজের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে। এক যুবরাজের ব্যাংক হিসাব ক্লোজ করা হয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে রাজপরিবারে ভীষণ অস্থিরতা চলছে। সৌদি রাজপ্রাসাদের দিকে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টিÑ নতুন কোনো খবর তৈরি হচ্ছে কি না।
সৌদি রাজিপরিবারে ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিবাদ- এমনকি হত্যার মত ঘটনাও নতুন কিছু নয়। বর্তমান অভিযানকে সৌদি কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হিসেবেই বিশ্বকে দেখাতে চাইছে। সৌদি রাজপরিবারের দুর্নীতি, ভোগবিলাসের জীবন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এটাও সত্য যে, এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাও বটে। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য রক্ত-প্রবাহ সৃষ্টি করার নজির অনেক আছে।
সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন। এ কমিটি গঠন করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের আটক করা শুরু করে। আকস্মিক এ ধরপাকড়ের ঘটনাকে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (৩২) ক্ষমতার উত্থান এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এটাও দৃশ্যমান যে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সৌদিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। বিশেষ করে ৮৫ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে সৌদি আরবে মধ্যপন্থী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছেন।
ভিশন ২০৩০ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সৌদি আরবের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যাপক পরিবর্তনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কট্টরপন্থী সৌদিতে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে নারীদের ওপর থেকেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। দেশকে আধুনিকায়নে গড়ে তুলতে পূর্বের অনেক ধ্যান-ধারণা থেকে সরে এসেছে সৌদি। মাঠে বসে নারীদের খেলা দেখা, গাড়ি চালানোসহ বেশ কিছু বিষয়ে নারীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে যা আগে নারীরাও চিন্তাও করতে পারতেন না।
ক্রাউন প্রিন্স তার সম্ভাব্য বিরোধীদের সরিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ এবং ধর্মভিরু উভয় পক্ষেই নিজের আধিপত্য বিস্তারে জন্যই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন- এমন অভিযোগও আছে। তিনি তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় কিন্তু সমালোচকরা বলছেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার উপরিভাগের চিত্র দেখে এই মুহূর্তে পরিস্থিতিকে যথার্থ ব্যাখ্যা করার সময় এখনো আসেনি। তবে সময়ই বলে দিবে সৌদি আরব কোন দিকে যাচ্ছে বা সৌদি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যতই বা কী?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ