ক্যাপ্টেন আবিদও বেঁচে নেই

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৮, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতানও মারা গেছেন।
বিমান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের জিএম কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে বারিধারায় ইউএস বাংলার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা কাল জানিয়েছিলাম, ক্যাপ্টেন আবিদ ক্রিটিক্যাল অবস্থায় বেঁচে আছেন। কিছুক্ষণ আগে আমরা খবর পেলাম, উনি আর বেঁচে নেই।”
৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ড্যাশ উড়োজাহাজটি।
রাত পর্যন্ত যে ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নেপাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছিল, তাদের মধ্যে ওই ফ্লাইটের ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ এবং ক্রু খাজা হোসেনের নামও ছিল।
ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্যাপ্টেন আবিদ আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। শামিম আক্তার নামের অন্য একজন ক্রুও জীবিত রয়েছেন বলে রাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছিলেন।
কিন্তু ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা কামরুল মঙ্গলবার সকালে নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের মৃত্যুর খবর দেন।
ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন।
তার একজন বন্ধু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিমান বাহিনীতে আবিদের মিগ-২১ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের সময়কালে আবিদই ছিলেন সব থেকে ‘ব্রাইট অফিসার’।
নেপালের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট বিমানটি ক্যাপ্টেন আবিদই কানাডা থেকে বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিলেন।
আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা পৃথুলা উড্ডয়নের ডিগ্রি নিয়েছেন আরিরাং এভিয়েশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ইউএস-বাংলায় যোগ দেন।
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতমাশফি বিনতে শামস সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উড়োজাহাজটিতে বাংলাদেশের যে ৩২ জন যাত্রী ছিলেন, তার মধ্যে দশজন কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সকালে তিনি তাদের দেখেও এসেছেন।
এদিকে ওই বিমানের যাত্রীদের পরিবারের ৪৬ জন সদস্যকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে কাঠমান্ডু গেছে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট। ইউএস বাংলার সিইও, ডিএমডিসহ সাতজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও সেখানে গেছেন দুর্ঘটনার তদন্ত করতে।
কামরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা স্বজনদের হাতে তুলে দেবেন। নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন, তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য ইউএস বাংলা ‘প্রস্তুত’।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ