ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি, ওসিসহ চার পুলিশের নামে মামলা

আপডেট: October 21, 2016, 11:42 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজশাহীর চারঘাট থানা পুলিশের ৪ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজশাহীর আমলী ৫ নম্বর আদালতে মামলাটি করেছেন চারঘাটের সরদহ ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক নাজমুল ইসলাম খোকন। রাতে খোকন নিজেই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন, চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ, উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক ও খায়রুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম এবং খোকনের সাবেক স্ত্রী নিভিয়া খান নিপু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে  ২০১২ সালের ২৮ মার্চ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার মিয়াপুর গ্রামের হুমায়ুন খানের মেয়ে নিভিয়া খান নিপুর। বর্তমানে তাদের তিন বছরের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর নিপু অসামাজিক কাজে জড়িত থাকায় তাদের সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে থানায় একাধিক জিডিও করেন খোকন। তবে পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় খোকনের স্ত্রী নিপুর। এরই জের ধরে চলতি বছরের ২৯ জুন ও ১৬ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে খোকনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন খোকন।
অবশেষে ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি স্ত্রী নিভিয়া খান নিপুকে তালাক দেন। পরদিন ১৭ জুলাই  দুপুর ১২টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কলেজ যাওয়ার পথে চারঘাট থানার এসআই আব্দুল খালেক ও এসআই খায়রুল ইসলাম খোকনের গতিরোধ করেন। এ সময় এসআই খালেক ওয়ারেন্টের কথা বলে তাকে গ্রেফতারের করে মোটরসাইকেলে তুলে নেন। পরে চারঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিং স্পটের গেটের সামনে খোকনকে মোটরসাইকেল থেকে নামানো হয়। এরপর এসআই খালেক একটি অবৈধ পিস্তল খোকনের কোমরে গুঁজে দেয়ার চেষ্টা করেন।
এসময় খোকন চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ কারণে তাকে দ্রুত থানায় নেয়া হয়। থানায় তিন ঘণ্টা আটক রেখে ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু এবারো টাকা দিতে রাজি হননি খোকন। পরে থানায় বসে এজাহার লিখে বাড়ি থেকে তার সাবেক স্ত্রী নিপুর কাছ থেকে স্বাক্ষর করে আনান ওসি। ওই মামলায় খোকনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শিক্ষক খোকন জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন। এরপরই তিনি এই মামলা করেন।
তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে রাজশাহীর পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। নাজমুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে খোকন এ মামলা করেছেন বলে দাবি করেন ওসি।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘আদালতে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো কাগজপত্র হাতে পাই নি। পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’