ক্রিকেটকে বিদায় বললেন নাজমুল হোসেন

আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০১৯, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ক্রিকেট থেকে অনেক দিন বাইরে নাজমুল হোসেন। তবে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের এই পেসার।
দীর্ঘ এক বছর বল হাতে কোনও ম্যাচে দেখা যায়নি নাজমুলকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ আবাহনীর বিপক্ষে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন এই পেসার। এতদিন ধরে যে ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলেন না, তা নয়। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ‘অঘোষিত’ পেস বোলার কোচ ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে তার দলের জয় শেষে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা।
২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় নাজমুলের। ওই বছরের ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে হয় টেস্ট অভিষেক। ওয়ানডেতে প্রায় নিয়মিত জায়গা পেলেও প্রথম ও পরের টেস্টে জায়গা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭ বছর! ইনজুরি জর্জর এক ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলেছেন মাত্র দুটি। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলেন নাজমুল।
৩৮ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচ খেলেন ২০১২ সালের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে। পরের বছর শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা থাকলেও নেট সেশনে পাওয়া চোটে ছিটকে যান নাজমুল। আর খেলা হয়নি তার। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ তিনি খেলেন হেগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে। ২০ ওভারের ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৪টি। বল হাতে খুব বেশি উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ওয়ানডেতে ৪৪টি, টেস্টে ৫টি আর টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১ উইকেট নেন নাজমুল।
এরপর কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলেন ডানহাতি পেসার। প্রায় সময় ইনুজুরিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেমন সুযোগ পাননি নাজমুল। ইনজুরি জর্জর ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে আমি বেশ কম ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু দলের সঙ্গে ছিলাম ১১ বছর। তবে শেষের দিকে আমাকে সব দিক থেকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম সৌভাগ্যবান না হলে আমার ফিরে আসা কঠিন হবে। এমনকি যখন ফিট ছিলাম তখনও অনিয়মিত জায়গা পেতাম দলে। প্রথম টেস্ট খেলার পর তো পরের ম্যাচ খেলতে লেগেছে ৭ বছর।’
ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বেশি না হলেও নাজমুলের স্মৃতির পাতায় আছে অনেক রঙিন মুহূর্ত, ‘আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আমি মাশরাফি ভাই, সাকিব, তামিমদের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। ক্রিকেট থেকে অনেক কিছুই পেয়েছি। ওয়ানডেতে প্রথমবার ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারানো দলে আমি ছিলাম। এগুলো ভাবলে মনে হয় আমি ভাগ্যবানই ছিলাম। ছোট ক্যারিয়ার, কিন্তু পেয়েছিও অনেক।’
এখন কোচিংয়ে মনোযোগ দিতে চান নাজমুল। বয়স ৩১ হলেও ক্রিকেট ছেড়ে কোচ হিসেবেই ভূমিকা রাখতে পারবেন আশাবাদী তিনি, ‘আমি এখনও তেমন চিন্তা ভাবনা করিনি। সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা বলেছে এভাবে খেলার জন্য বসে না থেকে যেন কোচিং করাই। তারা আমার ওপর ভরসা রাখছেন। আমি চাই না আমার মতো পেসাররা কেউ হারিয়ে যাক। এজন্য শুভাশীষ, শহীদ, আল-আমিন, তাসকিনদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।’