ক্ষতচিহ্নের পুনরাবৃত্তির

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো রংপুরের গঙ্গচড়া থানার পাগলাপীর এলাকার ঠাকুপাড়া গ্রামে। কে বা কারা ফেইসবুকে ধর্ম এবং ধর্মীয় নেতা সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য লিখে পোস্ট করে। যার নামে নবী ও ইসলাম বিরোধী পোস্ট দেয়া হয়েছে পাঠানো হয়েছে, তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাগত অবস্থান সম্পর্কে সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই না করে একটি চক্র তাৎক্ষণিক সংঘবদ্ধভাবে তাকেসহ তার ধর্মের অধিবাসীদের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধর্মান্ধরা যে সে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। সত্যাসত্য বিবেচনায় না এনে ধর্মরক্ষার অজুহাতে দুর্বল মানুষের ওপর আক্রমণ করে। এমনটি ঘটেছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। কক্সবাজারের রামুতেও তাই। গাইবান্ধার আদিবাসীদের ভূমি দখলের ক্ষেত্রেও আক্রমণ করে হত্যা আর তাদেও বাড়িঘর লুটপাটসহ পুড়িয়ে দেয় ওই একই মহল। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে অভিযুক্ত ও আক্রান্তরা প্রত্যেকেই সমাজের অর্থ-বিত্তহীন এবং নিরক্ষর। তারা অনেকেই সেল ফোন ব্যবহার করে, কিন্তু সেখানে এসএমএস করতে পারে না। টিটো রায় তো অক্ষরজ্ঞানহীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ জেলেও বিদ্যাহীন। তার নামে ধর্মান্ধরা মিথ্যে অভিযোগ তুলে সন্ত্রাসী কায়দায় পুরো এলাকা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।
এদের মতো রংপুরের টিটু রায় নিরক্ষর। জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, সে কেবল নিজের নামটা লিখতে জানে। আমাদের অনেকের বাড়ির কাজের মেয়েও তাই। এখন এদের ওপর অভিযোগ চাপানো হয় অত্যন্ত সুকৌশলে। দেশের কিছু রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা আছে, যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ওই সব দরিদ্রর সম্পদ-সম্পত্তি দখলে নিয়ে আখেরে সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধির ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে চায়। অন্য ধর্মেও অধিবাসীদের বিরুদ্ধে লোভ-বিদ্বেষ পোষণ করে। দরিদ্র ও অশিক্ষিত হলে সুবিধে হচ্ছে তাদের দৌড় গাঁয়ের মন্দির-মসজিদ পর্যন্ত। বেশি দূর তারা নালিশ নিয়ে এগোতে পারে না। তাদের দিক থেকে কোনো শক্তিশালী প্রতিরোধও গড়ে ওঠে না। ফলে তাদের ওপর চড়াও হওয়া অনেকটাই নিরাপদ। ভারতে যেমন গোরুর মাংস বহন বা বাড়িতে রাখার অভিযোগে ওই রকম দরিদ্র শ্রেণি ও নি¤œ পেশাজীবীর মানুষের ওপর নির্মম আক্রমণ চালিয়েছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, বাংলাদেশেও তাদেরই গোষ্ঠিভুক্তরা ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করতে নানা ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা হাতে নেয়। তাতে সরকারের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়, বিলম্ব হয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি পায়। মানুষও সরকারের ওপর নাখোশ হয়। দেখা যাবে যারা ধর্ম রাজ্য প্রতিষ্ঠার নামে এমন অমানবিক কাজে লিপ্ত এদের অধিকাংশই বিত্তবান, রাজনীতিক নেতা এবং ধর্মীয় নেতা। অধিকাংশই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ^াসী নয়। পাকিস্তান প্রেমি। ধর্মান্ধ।
আমরা মেনে নিলাম, কেউ স্বেচ্ছায় কিংবা অজ্ঞতার কারণে ধর্মীয় নেতা বা ধর্ম সম্পর্কে কট্যুক্তি লিখে ফেইসবুকে সেটা পোস্ট করেছে। প্রমাণিত হলে সে রাষ্ট্রীয় ও তথ্য আইনে অবশ্যই সাজা পাবে। সাজা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে একটা জনপদের সকল সংখ্যালঘুকে বাচ-বিচার না করে তাদের বসতভিটে পুড়িয়ে দেবে, তাদের অনেক কষ্টে অর্জিত সম্পদ লুটে নেবে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করবে, করতে হত্যা-ধর্ষণ, এটা কোনো ধর্মের নির্দেশ কি? কোনো ধর্মই এমন হত্যা-লুটপাট আর উৎপীড়নের পরামর্শ দেয়নি। যে এমন অমানবিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয় সে নিজের স্বার্থেই তা করে। আসলে সে ধর্মের কোনো নির্দেশ মানে না। ধার্মিকও না। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের লক্ষ্যে সে দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। কোরআনের কোথাও কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কারো সম্পদ-সম্পত্তি জোর করে দখলে নাও? নবীজির জীবনকালে তো তাঁর পরামর্শক পরিষদে ইহুদি এবং অগ্নি উপাসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনকালে আরবের কোনো বিধর্মী আক্রান্ত হয়ে সম্পদ-সম্পত্তি হারিয়েছে কেউ জানেন কি? জানা যায়নি। তাহলে তার অনুসারী দাবিদারেরা আজকে দেশময় যা করছে, সেটা কি ধর্মীয় নির্দেশ-পরামর্শের আলোকে করছে? না করলে মানুষ তার শাস্তি কতোটা দিতে পারবে আমরা জানি না। প্রত্যেক ধর্মের গ্রন্থেই সে তথ্য বিবৃত হয়েছে এবং মানুষকে সাবধান করা হয়েছে। কোন্টা অপরাধ আর কোন্টা ভালো। তারপরও কে গোরুর মাংস বহন করেছে অভিযোগে তাকে যারা মারধোর করলো কিংবা কে ফেইসবুকে কোনো ধর্মীয় মহাপুরুষের বিরুদ্ধে বিকৃত মন্তব্য করলো, তার সঠিক তথ্য না জেনেই নিরীহ ধর্মভাইদের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস করতে উদ্বুদ্ধ করলো―এটা সত্যিই অনভিপ্রেত। দুঃখজনকও। দেশের এবং মানব সভ্যতার জন্যে লজ্জাকর ঘটনা। এদের শাস্তি তাই রাষ্ট্রকে, বিশ^বিবেককেই নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের যে ভাবে মায়ানমার থেকে মেরে বের করে দেয়া হয়েছে, তা সেই দেশের সরকারের সমান্তরালে বৌদ্ধ ধর্মের জন্যেও লজ্জাকর। তারচেয়ে বড়ো কথা, কে কোথায় কী লিখলো আর মহাপুরুষের মান গেলো, এমন ভাবনাও যথার্থ নয়। মহাপুরষেরা সকল নিন্দা-অবজ্ঞা এবং অসম্মানের উর্ধ্বে। তাঁদের স্থান অনেক উঁচুতে। কারো নিন্দা-অবজ্ঞার অপেক্ষা তাঁরা করেন না। আমরা ইহজাগতিক লাভ-প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠায় যারা আস্থাশীল, তারাই বেশি মানবতাবিরোধী এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হই। নৈতিকতা-বিবেক আর মূল্যবােধকে বিসর্জন দিই। মহাপুরুষেরা নিজ গুণে মহীয়ান। নিজ কর্মে বিশ^নন্দিত। সদগুণে ও ভাবনায় তাঁরা আমার মতো মানুষের থেকে অনেক উর্ধে ও পূজনীয়। তাঁদের টিটো রায় কিংবা আমি যে-ই হই না কেনো, নিন্দা, অবজ্ঞা করলে কিছু যায় আসে না। সূর্যকে এক টাকার মুদ্রা দিয়ে আড়াল করা যায়? সে চেষ্টা যারা করতে উদ্যত, তারা নিছক ইতর মানসিকতার প্রাণী। অসভ্য। অন্ধকারের বাসিন্দা। বোকাও। সেই অন্ধকার যেদিন দূর হবে, সেদিন ধর্মের পবিত্রতাও রক্ষা পাবে।
আমরা পনেরো শতকে ইউরোপেও দেখেছি ক্যাথলিক পোটেস্ট্যানের শত বছরের যুদ্ধ ও রক্তপাত। ভারতবর্ষেও দেখেছি বাঙালি নিধনে রাজসভার নির্দেশ। বাংলাভাষায় কাব্যচর্চা কিংবা বিদ্যাভাস অপরাধ―এমন নির্দেশও জারি করা হয়। চর্যার কবিরা আত্মগোপনে থেকে কবিতা ও শিল্পানুশীলন করেছেন। পাকিস্তানি শাসনামলেও বাংলাভাষার গৌরবকে প্রতিরোধ করতে শাসকগোষ্ঠি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সমগ্র জাতি প্রাণ দিয়ে, নির্যাতন সহ্য করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছেন। ইসলামের বিজয় পতাকা যখন পারস্যে পৌঁছায়, তখন পার্সিয়ানরা ধর্ম ইসলামের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করে, কিন্তু আরবি ভাষাকে মেনে নেয়নি। রাতারাতি তারা ফারসি ভাষায় কোরআন অনুবাদ করে তাদের মতো নামাজ পড়া শুরু করে, শিক্ষা ও গবেষণায় ব্রতী হয়। তাতে যেমন আরবি ভাষার ও নবীজির মর্যাদা ক্ষুণœ হয়নি। বরং নানা ভাষায় কোরআন অনূদিত হয়ে গ্রন্থটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। বাংলায় কোরআন অনুবাদ করেন গিরীশচন্দ্র সেন। তাই তাঁকে ‘ভাই গিরীশ’ হিসেবে সম্ভাষণ জানানো হতো। একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্তৃক কোরআন অনুবাদ করায় কি সেই গ্রন্থের মর্যাদা ভূ-লুণ্ঠিত হয়েছে? যদিও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় বিশে^ কোন্টি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ প্রশ্ন করে ধর্মগ্রন্থগুলোর সঙ্গে ধর্মের নির্দেশকে অমান্য করা হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত উচ্চ শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেননি, সেখানে রংপুর বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-রামুর ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কি ব্যবস্থা নেবেন? আমরা জানি, যুদ্ধে নবী দাঁতে আঘাত পান। নবী সে আঘাতের জবাব দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হননি। প্রতিঘাত দেননি। তিনি স্রষ্টার কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন, এরা অজ্ঞান, এদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করো প্রভূ, এদের ক্ষমা করো হে দয়ালু। এ থেকে শিক্ষা আমরা নিই না। আমরা বরং প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে পারলেই মনে করি উত্তম হয়েছে। আরবি সাহিত্যে পড়েছি, পুত্রকে যে হত্যা করেছিলো, তাকে হত্যার জন্যে নিহত পুত্রের পিতা চারিদিকে তার লোক পাঠিয়েছেন। হত্যাকারী তাদের ধাওয়া খেয়ে সে যাকে হত্যা করেছিলো, তার পুত্রশোকে কাতর পিতার আশ্রয় গ্রহণ করে। পিতার ভদ্র-মানবিক আচরণে হত্যাকারী মুগ্ধ হয়। সে তখন শোকার্ত পিতাকে জানায়, তার পুত্রের হত্যাকারী সে। তাকে শাস্তি দেয়া হোক। পিতা পুত্র হত্যাকারীকে অর্থ দিয়ে বলেন, অতিথি হত্যার বিধান ধর্মে নেই। আরবিয়রা অতিথিপরায়ণ। তোমাকে অর্থ দিলাম, তুমি এই তল্লাট ছেড়ে দূরে চলে যাও। এই হচ্ছে মহত্ত্ব এবং একটি ভূ-খ-ের সংস্কৃতি। বাংলাদেশে কেনো সেই সংস্কৃতি স্থায়ী হলো না। এখানে তো সকল ধর্মাবলম্বীই যে যার ধর্ম পালন করে। তারপরও কেনো হিন্দু মন্দিরের প্রতিমা ভাঙা হয়? রোহিঙ্গাদের বিতারণের অভিযোগে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের ওপর আক্রমণের মানসিকতা প্রচার করা হয়? এ দেশের বৌদ্ধরা কি তাদের তাড়িয়েছে, নাকি ওই দেশের সরকার তাদের পরদেশি বন্ধুদের পরামর্শে রোহিঙ্গাদের বিতারণ করে সেখানের ভূ-সম্পদ দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে?
একাত্তরেও এই হীন মানসিকতার ব্যক্তিরাই প্রথমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে। করে তাদের সম্পদ লুট, ধর্ষণ, জ¦ালানো পোড়ানো। হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় নিলে শুরু হয় আওয়ামী লীগ আর কমিউনিস্টদের ওপর উৎপীড়ন। সবই তারা করেছে ধর্মরক্ষার ধুয়া তুলে। ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে। আজকে সৌদি আরব নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছে। বাদশা নিজ পরিবারের দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগোড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করছে তারা। একাত্তরে এই ধর্মান্ধ চক্র পরাজিত হয়েছিলো। গর্তে থেকেই তারা বাংলাদেশ বিরোধী নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এ দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য। ২৫ বছর গোলামী চুক্তি। মুসলমানকে লুঙ্গি পড়তে দেবে না, মেয়েদের শাখা-সিঁদুর পড়তে হবে, আরো হরেক রকম অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। তাতে জনমনে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়। এই ধরনের অপপ্রচারের ফলে রামুতে বৌদ্ধ মন্দির আক্রান্ত হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলে পল্লির দরিদ্র মানুষগুলো সর্বস্ব হারায়, আহত হয়। রংপুরেও তাই ঘটেছে। দুর্বলের ওপর সবলের সংখ্যাগুরু সন্ত্রাসী-ধর্মান্ধদের আক্রমণ। এদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এরা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করবে। শত শত বছরের সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বিনষ্ট করবে। স্বাধীনতার সুফল এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে। না হলে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে কী করে নিজের দলের সন্ত্রাসীদের দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে সরকারকে দোষারোপ করতে পারে কারা? যারা সত্যিকারেই বাংলাদেশের কনসেপ্ট বিরোধী। আজো একাত্তরের পরাজিতদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একসূত্রে গাথা। আর তারাই বার বার এই ধরনের নৈরাজ্য-সন্ত্রাস আর জঙ্গিপানা অব্যাহত রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে বলা হচ্ছে রাজনীতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে সরকার। বেগম জিয়া ক্ষমতায় গেলে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না। এটা প্রকাশ্যে আপোসের সুর, কিন্তু ভেতরে প্রতিহিংসার আগুন জ¦লছে। তার আলামত তো রংপুরের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের কিংবা তার আগে রামুতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় স্পষ্ট।
আসলে এদের বিরুদ্ধে লড়াইটা করতে হবে রাজনীতিকভাবে। সে রাজনীতির ভিত্তি হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। আমাদের প্রজন্ম প্রস্তুত। তারা হানাহানি এবং জঙ্গিপানা চায় না। চায় শান্তি এবং সমৃদ্ধি। সমৃদ্ধ দেশে থাকবে না বেকারত্ব, ক্ষুধা-দারিদ্র্য আর নতজানু নীতি। শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুশীলন ও চর্চা হবে সে আলোকেই। তা না হলে আজ যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক দাবি করছে, তারাও ওই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার মতোই অসম্মানীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। আওয়ামী লীগেরও ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজের সঙ্গে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের এ সময়ের প্রতিনিধিরাও যুক্ত হয়েছে। তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। লালন করা হচ্ছে পদ-পদবি দিয়ে। তারাই করছে বিভ্রান্ত। দলকে বিপথে পরিচালনা করে তার সুনাম ক্ষুণœ করছে। এদেরও কেউ কেউ সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে যুক্ত। নাসিরনগরে তো তাদেরই অগ্রণী ভূমিকায় দেখা গেছে। এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কী ব্যবস্থা নিয়েছে? সম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বায়াত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল করার বিকল্প নেই। দেশবাসী সেটা প্রত্যাশা করে। কারণ তাদের স্বজনদের আত্মদানে ওই সংবিধান রচিত। ্গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মূল্যবোধ অর্জনের জন্যে বায়াত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল করে বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার চেতনা ও আদর্শে আলোকিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায়ও তার অন্ততর্ভুক্তি অনস্বীকার্য।