খনি-চুক্তিতে অনিয়ম, পাকিস্তানকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার জরিমানা

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আর্থিক ভাবে এমনিতেই ধুঁকছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই ইসলামাবাদের ঘাড়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার বোঝা চাপাল আন্তর্জাতিক আদালত। খননকারী সংস্থার সঙ্গে বেআইনি ভাবে খনি-চুক্তি বাতিল করায় পাকিস্তানকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালতটি। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর আগে, কোনও দেশকে এত মোটা অঙ্কের জরিমানার নজির ইতিহাসে নেই।
সোনা ও তামার আকরিকের জন্য বিখ্যাত পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের রেকো ডিক এলাকা। ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের ওই এলাকায় খননকার্য চালাতে বিনিয়োগ করেছিল চিলে ও কানাডার মিলিত সংস্থা টেথিয়ান কপার কোম্পানি। গত ২০১০ সাল নাগাদ ওই এলাকায় খননকার্যের জন্য প্রচুর ডলার বিনিয়োগ করে সংস্থাটি। কিন্তু, ২০১১ সালে কোনও কারণ না দেখিয়েই সংস্থাটির ইজারা নবীকরণের আবেদন বাতিল করে দেয় বালুচিস্তান সরকার। ২০১৩ সালে ওই চুক্তি বাতিল বলে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্টও। এরপর, আন্তর্জাতিক আদালতে যায় সংস্থাটি। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা (আইসিএসআইডি) পাক সরকারের বিপক্ষে রায় দিলেও তখন জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হয়নি।
অবশেষে, বিপুল অঙ্কের জরিমানা ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক আদালত। কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক অর্থ ভা-ার থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সাহায্যের জন্য চুক্তিতে সই করেছে পাকিস্তান। তার মধ্যেই এমন ঐতিহাসিক জরিমানার ধাক্কায় কুপোকাত ইসলামাবাদ। ঘটনার পর পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ্যে এসেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিবৃতি। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘কাদের দোষে গোটা দেশকে এই বিপর্যয়ের সামনে পড়তে হল তা জানতে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।’’ একইসঙ্গে রেকো ডিকের মতো খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ল ইমরান সরকার।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা