খনি শ্রমিকদের কর্ম বিরতি প্রত্যাহার ||২১ দিন পর বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


টানা ২১ দিন শ্রমিক ধর্মঘটের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৭ টার শিফটে কাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকরা কয়লা উৎপাদন শুরু করেছে।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ১৩ দফা ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকরা ১৩ মে সকাল থেকে খনি গেটে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আসছিল। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে শনিবার রাতে খনি কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
খনির অফিসার ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক (সারফেজ অপারেশন) সাইফুল ইসলাম, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাবিবুল হক প্রধান, শ্রমিক ও এলাকাবাসীর পক্ষে ছিলেন খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, যুগ্ম সম্পাদক আমজাদ হোসেন, খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতা মশিউর রহমান বুলবুল, মিজানুর রহমানসহ ১০ সদস্যের একটি দল। বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১১ টার দিকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ কর্ম বিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের ঘোষণা দেন।
খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান জানান, খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনার প্রেক্ষিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে তারা কাজে যোগদান করেছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ জানান, বিসিএমসিএল এবং সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের সাথে স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় বড়পুকুরিয়া খনির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রমিকরা চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বেতনভুক্ত। বৈঠকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়, স্থানীয় সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান খনি শ্রমিকদের প্রাপ্ত সুবিধাদির যে প্যাকেজে রয়েছে তা খনির ঠিকাদার সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আপনারা কাজে যোগদান করলেই ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হবে। এর প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিন পর আন্দোলনরত শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি আবারো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ