খাওয়াজা-পেইনের বীরত্বে অস্ট্রেলিয়ার স্মরণীয় ড্র

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৮, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইতিহাস ছিল বিপক্ষে, বিরুদ্ধ ছিল বাস্তবতা। অপেক্ষায় ছিল পরাজয়। কিন্তু হাল না ছাড়া মানসিকতার কাছে হার মানল সব পারিপার্শ্বিকতা। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় প্রতিরোধ গড়লেন উসমান খাওয়াজা। লড়াইয়ে নিজেকে উজাড় করে দিলেন অধিনায়ক টিম পেইন। হারের মুখ থেকে অসাধারণ এক ড্র আদায় করে ছাড়ল অস্ট্রেলিয়া।
রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার পরশ বুলিয়ে শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার দুবাই টেস্ট।
শেষ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ছিল ৪৬২ রান। তবে অসম্ভব সেই লক্ষ্য ছোঁয়া নয়, অস্ট্রেলিয়ানদের লড়াই ছিল সময় কাটানোর। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে শেষ সেশনে অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ইনিংসে তাদের রান ছিল ৮ উইকেটে ৩৬২।
আগের দিন যে লড়াই শুরু করেছিলেন খাওয়াজা, নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে তিনিই অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ বাঁচানোর নায়ক। ১৪১ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, খেলেছেন ৩০২ বল, ব্যাট করেছেন ৫২৪ মিনিট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এর আগে সাড়ে তিনশ মিনিটও ব্যাট করতে পারেননি আর কেউ।
অধিনায়ক পেইন এই স্মরণীয় ড্রয়ের আরেক নায়ক। অসাধারণ ব্যাটিংয়ের পর যখন আউট হলেন খাওয়াজা, শেষ পথটুকু হয়ে পড়েছিল দারুণ বন্ধুর। অধিনায়কের ব্যাটে সেই কঠিন পথ পেরিয়ে দল পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা। যথারীতি, তার অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে মুখ্য ছিল সময়টুকু। ১৯৪ বল খেলেছেন, উইকেটে কাটিয়েছেন ২১৯ মিনিট।
পেইনের আগে আরেকটি বড় জুটিতে খাওয়াজাকে সঙ্গ দিয়েছেন অভিষিক্ত ট্রাভিস হেড। ৩ উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এই দুজনের দৃঢ়তায় প্রথম সেশন উইকেটবিহীন কাটিয়ে দেয় দল।
১৪২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে লাঞ্চের পরপর। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে প্রথম বলেই হেডকে ৭২ রানে এলবিডব্লিউ করে দেন মোহাম্মদ হাফিজ। আরেক অভিষিক্ত মার্নাস লাবুশেনকে ১৩ রানে ফিরিয়ে ম্যাচে প্রথম উইকেট নেন ইয়াসির শাহ।
পাকিস্তানের জেগে ওঠা সেই সম্ভাবনা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয় খাওয়াজা ও পেইনের ব্যাটে। উপমহাদেশে আগের ৫ টেস্টে খাওয়াজার মোট রান ছিল ১১৭। স্পিন খেলার সামর্থ্য ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এই টেস্টে দেখা গেল অন্য খাওয়াজাকে। টেকনিক-টেম্পারামেন্টের পরীক্ষায় দারুণ সফল। প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের পর এবার সেঞ্চুরি।
থামেননি তিন অঙ্ক ছুঁয়েও। লড়াই চালিয়ে গেছেন। দুজনের জুটি কাটিয়ে দেয় ৩৬ ওভারের বেশি। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বেশ সহজেই ড্র আদায় করে নেবে অস্ট্রেলিয়া। নাটকীয়তার তখনও ছিল বাকি।
চোট কাটিয়ে ফেরার পর পুরো ম্যাচে বিবর্ণ ইয়াসির হুট করেই জ্বলে উঠলেন। সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ খাওয়াজা। এই লেগ স্পিনার নিজের পরের ওভারে ফেরালেন মিচেল স্টার্ক ও পিটার সিডলকে। ম্যাচের তখনও বাকি ঘণ্টাখানেক। অস্ট্রেলিয়ার বাকি কেবল দুই উইকেট।
পেইন তবু মাথা নত করলেন না। অধিনায়ককে দারুণ সঙ্গ দিলেন নাথান লায়ন। দশ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান খেলে ফেলল ৩৪ বল। তাদের প্রতিরোধের দেয়ালে মাথা কুটে মরল পাকিস্তানিদের সব প্রচেষ্টা। বল টেম্পারিং বিতর্কে জর্জরিত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় শুরু হলো দুর্দান্ত এক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৮২
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২০২
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৮১/৬ (ডি.)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৬২) ১৩৯.৫ ওভারে ৩৬২/৮ (আগের দিন ১৩৬/৩)(খাওয়াজা ১৪১, হেড ৭২, লাবুশেন ১৩, পেইন ৬১*, স্টার্ক ১, সিডল ০, লায়ন ৫*; আব্বাস ৩/৫৬, হাফিজ ১/২৯, ইয়াসির ৪/১১৪, ওয়াহাব ০/৪২, বিলাল ০/৮৭, হারিস ০/১৬, শফিক ০/১)।
ফল: ম্যাচ ড্র
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে ০-০ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: উসমান খাওয়াজা