খাদ্যপণ্য আমদানিতে তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষা নীতিমালার গুরুত্ব অপরিসীম

আপডেট: জুন ১০, ২০১৯, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

পারমাণবিক তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়া এখন থেকে মানুষসহ হাঁস-মুরগি, মাছ ও পশুর খাদ্য আমদানি করা যাবে না। এসব পণ্য আমদানির আগে তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া ‘আমদানি নীতি ২০১৮-২০২১’ এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অনেক বিলম্বে হলেও যে নেয়া সম্ভব হয়েছেÑ নিঃসন্দেহে সেটি দেশবাসীর জন্য স্বস্তির ব্যাপার। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় নিয়ে এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়া গেছে তা প্রশংসনীয়। এর গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে নীতিমালা উদ্ধুত করে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়া এসব পণ্য বাংলাদেশে কোনো অবস্থায় ঢুকতে দেয়া হবে না। এসব পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি তেজষ্ক্রিয়তা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারককে নিজ খরচে তা আমদানিকৃত দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। এ ছাড়াও, সরাসরি খাওয়া যায় বা পান করা যায় এমন পণ্য আমদানিতে কোন বয়সের মানুষের খাওয়ার উপযোগী এবং তা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়, এমন ঘোষণা থাকতে হবে।
তবে মসলা, ওষুধ, কন্সেন্ট্রেটেড এসেন্স, সিগারেট, তামাক ও বিয়ারজাতীয় পণ্য আমদানিতে তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে হুইস্কিসহ মদ জাতীয় অন্যান্য পানীয় আমদানিতেও তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষা এবং পণ্যের মোড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকার প্রয়োজন হবে না। আমদানি নীতিতে মানুষের খাদ্য হিসেবে ‘জেনেটিক্যালি মোডিফাইড অর্গানিজম’ (জিএমও) ও ‘লিভিং মোডিফাইড অর্গানিজম’ (এলএমও) আমদানির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ বায়ো-সেইফটি গাইডলাইন্স’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
আর্থিক সক্ষমতার এ এক ইতিবাচক দিক যে, জনস্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়। আর্থিক দৈন্যতার সুযোগটা দেশের অসাধু আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোও এতোদিন নিয়ে এসেছে। এই শ্রেণির আমদানিকারকরা অধিক মুনাফার লোভে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য বিরোধী খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে দেশের মানুষের সর্বনাশ করেছে। অন্যদিকে রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ ও বাতিলপণ্য অনুন্নত দেশগুলোতে সরবরাহ করে থাকে। যদিও তাদের দেশে এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ।
দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বহুদিন ধরেই আমদানিকৃত পণ্যের তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছিল। কিন্তু বিষয়টি কোনো সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টিগোচর করানো যায় নি। শিশু খাদ্যের মত সংবেদনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষার প্রয়োজন বোধ করা হয় নি। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের প্রতি যে গুরুত্ব দিচ্ছে- তা পারমাণবিক তেজষ্ক্রিয়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায়। এই সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের জন্য মর্যাদারও ব্যাপার। সরকার অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ