খালেদাকে মুক্ত করে তবেই নির্বাচনে যাবে ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৮, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ-সোনার দেশ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করে তবেই নির্বাচনে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। আগামি ২৩ ডিসেম্বর যে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে তাও বানচাল করা হবে বলে মন্তব্য করেন তারা। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই কমিশন সরকারের তল্পিবাহক। এই কমিশনের কোনো এখতিয়ার নেই সরকারি দলের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য তফসিল ঘোষণা করার। দলের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করেই তফসিল ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই লক্ষ্যে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য কর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানান।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। তফসিল ঘোষণার পর এটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন সভা-সমাবেশে কোনো বাধা প্রদান করা হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই ওয়াদা রাখেন নি। এই ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আসতে আমাদের নেতাকর্মীদের ব্যাপক বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের পথে থামিয়ে থামিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। গণ- গ্রেফতারেরও শিকার হয়েছে নেতৃবৃন্দ। এইরকম একটা পরিস্থিতি যখন দেশে বিরাজমান তখন কীভাবে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে। আন্দোলনই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমন্বয়কারী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তবে তার শুভেচ্ছা বক্তব্য ফোনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা হয়। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আহ্বায়ক আসম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণ-ফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহম্মেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার বৈধ সরকার নয়। এই সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আর কখনো কোনো সংলাপ হবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি গণতন্ত্রের সাথে একাকার। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে কোনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তাই আমাদের আন্দোলনই একমাত্র পথ। একদিকে গ্রেফতার নির্যাতন চালাবেন আর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলবেন তা কখনো হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া কখনো তফসিল ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না।
আ স ম আব্দুর রব বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এই সরকারকে উৎখাত করা হবে। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আন্দোলন করছি। বিএনপির ব্যানারে নই। আমি ক্ষমতায় গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে যে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে তা দূর করা হবে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আন্দোলনই একমাত্র পথ। আন্দোলন ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। একদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলবেন আর ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের গ্রেফতার করবেন তা কখনো হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ