খালেদা জিয়ার বক্তব্য || আইনের শাসনের অন্তরায়

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিচার করা স্বাধীনভাবে আইন মেনে বিচার করতে পারেন কি না, এ মামলার রায়েই তার প্রমাণ আসবে। ঢাকার বকশীবাজারে পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে প্রায় দেড় ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তাঁর এই আত্মসমর্পনের বক্তব্য দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি আরো কিছু বক্তব্য রেখেছেন যা শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তার কাউন্টার করেছেন। তাঁর ওই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা- সমালোচনা বোদ্ধা মহলেও হচ্ছে। বেগম জিয়া দেড়ঘণ্টার বক্তব্যের প্রায় পুরোটাই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েই শেষ করেছেন। এটাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, মামলাকে প্রলম্বিত করার জন্যই তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধের মামলা নানা উপায়ে প্রলম্বিত করা হয়। এটা ন্যায় বিচার ও দ্রুত বিচার করার ক্ষেত্রে অন্তরায় বলেই মনে করা হয়। তবুও যারা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়- তাদের দ্বারাই বিলম্বিত করার প্রক্রিয়াটা বেশি করে হয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশের অন্যতম বড় একটি দলের প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মামলার রায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এখন আদালতকে প্রমাণ করতে হবে তারা স্বাধীন না সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটান। তিনি বিচার বিভাগ বা আদালতকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ছাড়লেন। তাঁর বক্তব্যের এই মর্মার্থ হয় যে, তিনি মামলায় খালাস পেলে বিচার বিভাগ স্বাধীন আর আদালত শাস্তির বিধান দিলে বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়Ñ সরকারের ইচ্ছেরই প্রতিফলন হবে। আইনের শাসনের শাসনের জন্য এর চেয়ে বড় অন্তরায় আর কী হতে পারে?
তিনি নিজেকে বরাবরই নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন, তা হলে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন কেন? শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ, জওহরলাল নেহরু, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিংয়ের মতো নেতাদের নাম তুলে ধরেন, যাদের ‘অবিচারের মাধ্যমে’ কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
বেগম জিয়া ওইসব বিশ্ব মানবের সাথেও নিজেকে তুলনা করার চেষ্টা করেছে। সেটা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। রাজনীতিকরা মাত্রা দিয়ে অনেক সময় কথা বলেন না কিন্তু সে মাত্রারও একটা সীমা থাকা দরকার। পরিমিত বোধ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে প্রতিফলিত করে। এটা যখন রাজনীতিকরা ভুলে যায়, তখন শুধু দলে নয়- সমাজেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে সমাজের দুষ্ট লোকেরাই উপকৃত হয়, ভালো লোকেরা অপসৃত হয়। এ থেকে উত্তরণের উপায় হতে পারে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং গণতন্ত্রের প্রতি নিষ্ঠা ও তার অনুশীলন অব্যাহত রাখা।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ