খুলনার মেয়র খালেক

আপডেট: মে ১৬, ২০১৮, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


উৎফুল্ল কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বিজয়ী খালেক-সংগৃহীত

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে (ধানের শীষ) বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) তালুকদার আবদুল খালেক।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
সর্বশেষ বিভিন্ন উৎস থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খালেককে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।
ফলাফলে দেখা যায়, ২৮৬ কেন্দ্রের সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। অপরদিকে তার থেকে অর্ধেক পিছিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। বাকি ২৮৬ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১৭৬৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট।
২৮৬ কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়।
এদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার ভালো ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বলেছেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলেছেন, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে।
অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, দুই একটি ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিএনপির অভিযোগ সুস্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।
যদিও অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।
২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারী ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।
এছাড়া নৌকা প্রতীকে সিল মারার ঘটনায় রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়।
পাশাপাশি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত রাখা হয়।
২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে স্থগিত করা হয় ভোট। সেখানেও নৌকা মার্কায় সিল মারা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ