গণকবরসহ জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ১:২২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর ২৫নম্বর ওয়ার্ডের রাণীনগর এলাকার গণকবরসহ জমি দখলের অভিযোগে উঠেছে সারোয়ার জাহান নবাব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি দুই কাঠা জমি কিনে গণকবরসহ চার কাঠা জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ জমিসহ গণকবরের বিষয়ে আদালাতে মামলা চলছে বলে মুক্তিযোদ্ধার স্বজনরা জানায়। জমিতে অবস্থিত গণকবরসহ অংশ জবর দখলের অভিযোগে গত রোববার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহিদ জামাল উদ্দিন শেখ, শহিদ নাজিম উদ্দিন শেখ ও শহিদ আলমগীর হোসেন যুদ্ধে শহিদ হন পাক-সেনাদের হাতে। পরে তাদের এখানে দাফন করা হয়।
সেই সময় শহিদ জামাল উদ্দীনের বাবা আবদুল মোত্তালেব বলেছিলেন, এই গণকবরে আপন দাদা ও চাচা রয়েছে। তাই এই গণকবরের জন্য শরীকদের (ওয়ারিস) অনুমান ২ কাঠার বেশি সম্পত্তি (জমি) ছাড়া হয়।
এসময় আরো বলা হয়, আর.এস ৩২৯ নম্বর খতিয়ানে লিখিত প্রজা রমেশা খাতুনের এক আনা তিন গ-া এক কড়া এক ক্রান্তি অংশে .০৩৭৯ একর জমির বৈধ মালিক। গত ’৭৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ৪৯৯৬ ও ৪৯৯৭ নম্বর কবলা দলিলে .০৬৫০ একর জমি জনৈক সমসের আলী কাছে বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে জনৈক সমসের আলী সেই জমি দখল না করে একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রেজিষ্ট্রি ৯৭১৫ নম্বর কবলা দলিলে .০৩৭৯ একর সম্পত্তির স্থলে .০৬৫০ একর জমি আবদুল গণির কাছে বিক্রয় করেন। আবদুল গণি তপশীলের .০৬৫০ একর সম্পত্তির মধ্যে তিনি বৈধভাবে ১ কাঠা ১২ ছটাক জমির মালিক। অবশিষ্ট জমি গণকবরসহ শরীকদের নিজ চলাচলের জন্য জমি ছেড়ে রাখা হয়।
আবদুুল গণির মৃত্যুর পরে ওয়ারিশগণ জমেলা খাতুন .০৬৫০ একর সম্পত্তি বিক্রি করেন, একই এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে সারোয়ার জাহান নবাব এর কাছে।
তিনি গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে জমি দখল করতে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে এসে জমিতে বাউন্ডারি-ওয়াল দিবার চেষ্টা করে। এসময় শহিদ পরিবারের আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয়রা এসে বাধা দেয়। এতে নবাব গালিগালাজসহ হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। এসময় তিনি সব গণকবরসহ জমি জবর-দখলের কথা বলে আসে। এ নিয়ে শহিদ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সারোয়ার জাহান নবাব বলেন, আমি কাগজ দেখে জমি কিনেছি। কাগজে আছে .০৬৫০ একর জমি। আমি (নবাব) জমি কিনেছি সেখানে গণকবর উল্লেখ নেই। সেখানে গণকবর ছিলো না।