গণপরিবহনে যৌন হয়রানি বন্ধে রাবির ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৯, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


গণপরিবহনে যৌন হয়রানি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও জরিপ চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা কতটা নারীবান্ধব তা যাচাইয়ের জন্য সংগঠনটি থেকে একটি জরিপ করেছে তারা। গতকাল শুক্রবার রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংগঠনটির কর্মীরা এই কর্মসূচি চালায়।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন, মহানগরীর রেলগেট, ভদ্রাসহ বেশ কয়েকটি স্থানের বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, লেগুনা ইত্যাদিসহ প্রায় সকল পরিবহনে ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ স্লোগান সংবলিত স্টিকার লাগানো হয়। যৌন হয়রানিকে ‘না বলুন’ এবং আইনি সহায়তার জন্য জরুরি সেবাদাতা ১০৯ নম্বরে কল করার বিষয়ও স্টিকারে উল্লেখ করা হয়। জনসচেতনতার লক্ষ্যে যাত্রী, চালক, হেলপার, পথচারীদের সাথে আলোচনা করেন সংগঠনটির কর্মীরা। এসময় পরিবহন ব্যবস্থা কতটা নারীবান্ধব সে বিষয়ে তারা একটি জরিপ চালায় তারা। জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ নারীই পরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।
‘পথের সাথী’ নামের বাসের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা ভালো একটা উদ্যোগ। অনেক সময়ই পুরুষেরা নারীদের ইচ্ছে করে ধাক্কা দেয়, গায়ে হাত দেয়, ঘেঁষে দাঁড়ায়। এটা খুব জঘন্য কাজ। এই কর্মীরা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এসব লেখা দেখে পুরুষেরা নারীদের গায়ে হাত দিতে লজ্জা পাবে। সারা দেশে এরকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিত। কারণ সবারই বাড়িতে মা-বোন আছে। সবাই নিরাপদে থাকতে চায়।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাহানা আক্তার বলেন, অন্ধকারে যৌন হয়রানি তো চলছেই। আজকাল জনসম্মুখেও হয়রানি করা হচ্ছে নারীদের। গা ঘেঁষে দাঁড়ায়, একটু ভীড় হলেই গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে, ইচ্ছে করে ধাক্কা দেয়া, নোংরা বাক্য ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে পাবলিক স্থানে স্টিকার দেখে লজ্জায় অন্তত এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এতটুকু আশা করা যায়।
‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ সংগঠনের সভাপতি এবং রাবির শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওরীন পল্লবী বলেন, ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। বিভিন্ন পরিবহনে আমাদের লাগানো এই স্টিকারগুলো সাধারণ যাত্রী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এমনকি যৌন হয়রানির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি বার্তা বহন করবে। একজন ভুক্তভোগী যখন দেখবে তার সমস্যার ব্যাপারে অনেকেই আলোচনা করছে এবং সজাগ আছে তখন সে নিজেও প্রতিবাদ করতে লজ্জাবোধ করবে না। সাহসের সাথে আওয়াজ তুলতে সামর্থ হবে। পাশাপাশি যারা এসব অপকর্ম বা নোংরা কর্মকাণ্ডগুলো ঘটায় তারা ভীত হবে। এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষও এসব ব্যাপারে সজাগ থাকবে’।
এর আগে, সংগঠনটি রাজশাহীর প্রায় আটটি স্কুলে শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিষয় নিয়ে কর্মশালা করে। সেখানে যৌন বিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও নিপীড়িতদের আইনি সহায়তা দেয়া, যৌন হয়রানি বিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও নির্যাতিতদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা, বাল্যবিবাহ ও ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠা এবং শিশু নিপীড়নের হার নির্ণয়ে জরিপ পরিচালনা, শিশুদের কে নিজেদের শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গগুলোর সাথে পরিচিতি এবং ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বুঝানো, কে বা কারা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অঙ্গগুলো দেখতে বা স্পর্শ করতে পারবে তা বুঝিয়ে দেয়া, কেউ খারাপভাবে আদর করলে কী কী উপায়ে তারা নিজেকে রক্ষা করবে তার স্পষ্ট ধারণা দেয়া ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। তাছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে নিপীড়িতদের হার নির্ণয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ