গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিষয়ে ১০ উৎস চিহ্নিত দুদকের

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিষয়ে ১০টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তার কাছে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদফতরে দুর্নীতি হয় এমন ১০টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সমস্ত দুর্নীতি বন্ধে তারা ২০টি সুপারিশও করেছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই প্রতিবেদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে দেবো। দুদক যে রিপোর্ট দিয়েছে তা প্রয়োজনে চুইংগামের মতো টেনে লম্বা করা হবে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এই গাইডলাইনের আদলে আমরা তদন্ত করে দুর্নীতি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবো।’
গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করে আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখেছি এবং শিখেছি। দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতির পথ অনুসরণ করছি। বনানী ও রূপপুরের ঘটনায় কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। বনানীর আগুনের ঘটনায় এবং অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের দায়ে ৯৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। বাংলাদেশের এটি একটি ইতিহাস। আমি দুর্নীতি করবো না, করতেও দেবো না।’
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি একটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছি, যেকোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সময় বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সময় বাড়াবো, কিন্তু ব্যয় বাড়াবো না।’
শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘আমার কর্মকর্তারা যারা ছোট ছোট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাদের সংশোধন হতে সময় দিয়েছি। সংশোধন না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান অভিযান আমার কর্মকর্তাদের জন্য একটি ম্যাসেজ।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘জি কে শামীমকে কোনও কাজ দেওয়া হয়নি, কাজ দেওয়া হয়েছে তার কোম্পানিকে। তার কোম্পানির করা কোনও প্রকল্প কাজে যদি কোনও দুর্নীতি বা গাফিলতি থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার কিছু প্রকল্প আমরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছি। তারা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের অজুহাত তুলেছে। বাকি কাজ করার প্রয়োজন হলে আমরা রিটেন্ডার করবো। যে কাজগুলো চলছে সেগুলো কোয়ালিটি সম্পন্ন না হলে আমরা গ্রহণ করবো না।’
প্রধান প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান প্রেকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে দুদক ও পুলিশ।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন