বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

গত পঞ্চাশ বছরেও ব্রিজ হয়নি জয়পুরহাটের তুলশী গঙ্গা নদীতে || একটি মাত্র বাঁশে ভর করে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর যাতায়াত

আপডেট: January 21, 2020, 12:42 am

জয়পুরহাট প্রতিনিধি


জয়পুরহাটের তুলশী গঙ্গা নদীতে ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই নদী পারাপার করে শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে জয়পুরহাট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকলেও সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তুলশী গঙ্গা নদীর কূলে হওয়ায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন গত পঞ্চাশ বছর ধরে। এক তীরে স্কুল আর অপর তীরবর্তী গ্রামগুলো থেকে আসে শতশত শিক্ষার্থী। এ নদীর উপর ৫০ বছর যাবত কোন সাঁকো বা ব্রিজ না থাকায় এক বাঁশে ভর করে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। একই কারণে উপস্থিতি কম বলে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে স্থাপিত হয় জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তুলশী গঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে পূর্ব তীরে রয়েছে স্কুলটি আর পশ্চিম দিকের ৪/৫টি গ্রাম থেকে আসে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। এই গ্রামটির সঙ্গে শহরাঞ্চল কিংবা অন্য গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনিতেই বেশ নাজুক। সরু মেঠো পথ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নেই কোন বিকল্প রাস্তা। এ সব ধকল সহ্য করে পায়ে হেঁটে স্কুলের কাছে এসে নদী পার হতে হয় এক বাঁশে ভর করে।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ, তদবির আর অনুরোধ করেও কোন ফল হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। মুরারীপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান জানান, ‘আমার স্কুলের ক্লাসমেট এরিয়া মুরারীপুর, পাইকপাড়া, গোবিন্দপুর ও গঙ্গা দাশপুর, এই ৪টি গ্রামের ১টি গ্রামে স্কুল আর নদীর ও পাড়ে ৩টি গ্রাম। এখানে নদী পারাপারের কোন ব্যবস্থা নেই, এ ব্যাপারে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করে কোন ফল পাইনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুলে আসতে খুবই অসুবিধা হয় শিক্ষার্থীদের। তখন ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির বাচ্চারা সাঁতরিয়ে নদী পাড় হলেও শিশু শ্রেণি থেকে ৩য় শ্রেণির বাচ্চারা তো তা পারে না। তাই স্কুলের উপস্থিতি কমে যায়, আমরা বড় জোর একটা বাঁশের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’ বর্ষাকালে নানা বয়সী এলাকাবাসীদের সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের ভরসা খয়া ঘাটের একটি মাত্র ডিঙ্গি নৌকা। আর শুকনো মৌসুমে নদীতে কোথাও হাঁটু জল আবার কোথাও বা গলা পর্যন্ত, ফলে পারাপার হতে হয় একটি বাঁশে চড়ে আর হাত দিয়ে শরীরের ভর সামলাতে হয় আরেকটি বাঁশে। এ ভাবে যুগ যুগ ধরে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয় এ এলাকার শিক্ষার্থীদের। এমন বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে অচিরে একটি সাঁকো বা ব্রিজের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
মুরারীপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা আখতার, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আভা মুনিসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীর উপর কোন সাঁকো নাই বলে তারা ঠিক মত স্কুলে আসতে পারে না, নদীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড় হওয়ার সময় অনেকে পা পিছলে পড়ে গিয়ে বই খাতাসহ অনেকে ভিজে যায়। বর্ষার সময় তাদের অনেকেই স্কুলে আসতে পারে না। এ জন্য ব্রিজের খুবই প্রয়োজন বলেও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে।
ব্রিজ বিহীন নদী পারাপারের এমন দুর্ভোগ নিয়ে পঞ্চাশ বছর ধরে ভুগছে এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ছাড়াও পাশর্^বর্তী ৫/৭টি গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্রিজ নির্মাণের আবেদন জানান শিক্ষকরা।
মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রনব চন্দ্র মন্ডলসহ স্থানীয়রা জানান, শুধু এই স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, আশ পাশের গ্রামগুলোর শত শত শিক্ষার্থী কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, এ ছাড়া এখানকার সাধারণ মানুষরা জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন শহর-বন্দরে একই পথ ধরে যাতায়াত করছেন ওই একটি বাঁশেই ভর করে। তাই সরকার যদি ব্রিজটি নির্মাণ করে দেয় তাহলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে। এ অঞ্চলের মানুষের চলাফেরার সুবিধা হবে।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ব্রিজটির নির্মাণ সম্ভব হবে বলে জানান জয়পুরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এফএম খায়রুল ইসলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ