গান-গল্প ও কবিতায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন || অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৮, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়-সোনার দেশ

গান-গল্প, কবিতা ও নৃত্যে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিলো নগরবাসী। বসন্তকে বিদায় দিয়ে রঙিন পোশাক পড়ে নানা বয়সির নারী-পুরুষরা ওইদিন আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেয়। শপথ নেয় একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তোলার। তুলে ধরে আবহমান বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
শনিবার পহেলা বৈশাখের দিন ভোর থেকেই আনন্দের গীতধারা বয়ে যাচ্ছিল নগরীজুড়ে। যেন বৈশাখকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে সেজেছিল নগরীর পথ-ঘাট ও প্রান্তর। সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে বের হয়ে আসে নগরীর মানুষজন। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ভরে তুলে পথঘাট। বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে আয়োজন করে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে সঙ্গে চলে নাচ। শোভাযাত্রায় স্থান পায় নানা আকৃতি ও অবয়বের মুখোশ। এছাড়া বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সবকিছুই স্থান পায় শোভাযাত্রায়। তরুণ-তরুণীরা পরে উজ্জ্বল বর্ণের শাড়ি ও পাঞ্জাবি। শিশুরা পড়ে ফ্রক ও ফতুয়া। মেয়েরা মাথায় পরে ফুলের ব্যান্ড। গালে আঁকে আলপনা। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সি একদল নারী-পুরুষ সেজেগুজে ঢাকির বাদ্যির সঙ্গে নাচতে থাকেÑ যেন দেখলেই চোখ জুড়ে যায়। চলে বাঙালির চিরায়ত খাবার পান্তা ভাত, কাঁচালঙ্কা ও পেঁয়াজ কুচির সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাওয়া।
সকাল থেকেই দিনব্যাপি বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করে বর্ষবরণের নানা উৎসব। এর বেশিরভাগ স্থানজুড়েই থাকে গান-গল্প, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য। কেউ নাটক করে, কেউ বা পুঁথিপাঠ আবার কেউবা নিছক গল্প করেই পার করে দেয় বৈশাখের প্রথম দিন। বিভিন্ন জায়গা অনুষ্ঠিত হয় লোক উৎসব।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই তারা বরণ করে নেয় পহেলা বৈশাখ। সকালের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ভিড় থাকে প্রধানত। বিকেলে দিকে সবাই ভিড় জমায় পদ্মার পাড়সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্র ও পদ্মার চরে। এছাড়া শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান জাতীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা এবং শহিদ জিয়া শিশু পার্কেও ভিড় জমায় বিনোদনপ্রেমিরা। বিশ্ববিদ্যালয়েও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ।
জেলা প্রশাসন : পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিভার ভিউ কালেক্টরেট মাঠ স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান, জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সেখানে দুই দিনব্যাপি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট : পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে দুইদিনব্যাপি কর্মসূচি পালন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শনিবার ভোর থেকেই আলুপট্টির পদ্মার পাড়ে শুরু হয় শিশু কিশোরদের নিয়ে পহেলা বৈশাখের নাচ-গান ও কবিতা আবৃত্তি। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা আলুপট্টি থেকে বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলুপ্িট্টতে এসে শেষ হয়। ঢাবেকর বাদ্যির তালে তালে সেখানে নাচ-গান মেতে উঠে কর্মীরা। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন আকতার রেণী, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, অধ্যক্ষ (অব.) শফিকুর রহমান বাদশা, অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন, প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান প্রমুখ। বিকেলে জোটের উদ্যোগে নগরীর ফুদকি পাড়ার রবীন্দ্র-নজরুল মঞ্চে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন সংগঠন গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্দ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। সকালে নগর ভবন হতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোমিনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে গিয়ে জেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রায় মিলিত হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় রাসিকের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড : গত শনিবার বাঙালি জাতির গৌরব ও অহংকার বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন- বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির গর্ব ও ঐতিহ্য। অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আকবর হোসেন, বিদ্যালয় পরিদর্শক, প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় ও উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বাদশা হোসেনসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ০৭.৩০ মিনিটে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট প্রদক্ষিন করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ফিরে প্রাণবন্ত আলোচনান্তে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। নববর্ষ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় অন্যান্য সদস্যগণের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাব : শনিবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মিলন মেলা এবং বিকেলে টিবি হাসপাতাল পুকুরপাড় গণকবর প্রাঙ্গনে স্মরণ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ। এ সময় এ দিনে (পহেলা বৈশাখ) তিন শহীদের অন্যতম শহীদ আব্দুল বারী হাওলাদারের সন্তান প্রখ্যাত ফটোসাংবাদিক বুলবুল চৌধুরী ও তার আত্মীয়-স্বজন।
মিলন মেলায় রাজশাহী প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি আবু সালে মোহাম্মদ ফাত্তাহ্র সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ উপদেষ্টা কবি লেখক প্রাবন্ধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসান খন্দকার, রাজশাহী প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি আজাহার উদ্দিন, শ.ম. সাজু, যুগ্ম-সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্র্তৃক নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান সরকার, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, নিউনেশনের রাজশাহী ব্যুরো মহিবুল আরেফিন, সাংবাদিক কাজী রকিব উদ্দিন, স্মৃতি পরিষদ সদস্য ইকবাল হাসান টাইগার প্রমুখ।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি : নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এনবিআইইউ) উৎসাহ উদ্দিপনা ও নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ উদযাপন করা হয়েছে। নববর্ষ বরণ উপলক্ষে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে শনিবার সকাল ৯টায় রাজশাহী নগরীর আলুপট্টিস্থ ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
এরপর বঙ্গবন্ধু চত্বরে মনোঙ্গ সাংকৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও কবি অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক। ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলামিষ্ট ও গবেষক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি উৎসব আয়োজনে আবহমান সংস্কৃতির চেতনায় হৃদ্ধ বাঙালিরা পাকিস্তানীদের কাছে হার মানে নি। পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা, বঙ্গবন্ধু, শহীদ মিনারকে ভয় পেয়ে তা ভেঙ্গে দিয়েছে। তিনি এ নববর্ষকে অত্যন্ত সততার সাথে পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু চত্বরে বর্ষরণ উপলক্ষে পান্তা-ইলিশসহ হরেক রকম বাঙ্গালী খাবার নিয়ে বৈশাখী স্টল দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনবিআইইউ’র উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল জলিল, ট্রেজারার প্রফেসর অবায়দুর রহমান প্রমানিক, রেজিস্ট্রার রিয়াজ মোহাম্মদ, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম ওয়াজেদ আলী, প্রফেসর আব্দুর রউফ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জোনাব আলী, প্রক্টর ড. আজিবার রহমান, সহকারী প্রক্টর আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক ড.নাসরিন লুবনা ও হাসান ঈমাম সুইট। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে গম্ভীরা, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
০৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর : শনিবার সকালে মহিষবাথান উত্তরপাড়া ৫নং ওয়ার্ডের নববর্ষ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি র‌্যালী উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ০৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু। এই সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ ৫নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক তানজির হোসেন দুলাল, প্রভাষক মোহাম্মদ আলী, এ্যাডঃ খায়রুল বাসার, প্রধান শিক্ষক শফিকুল হক বাবু, খোসান, মারুফ আক্তার বাদল, অবঃ প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান, জাকারিয়া আকন্দ বর্নাঢ্য র‌্যালী সমগ্র ৫নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কে শোভাযাত্রা করে। অতপর পিঠা ও রুটি উৎসব উদ্বোধন করেন কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু। সবশেষে পান্তাভোজ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
পবা উপজেলা প্রশাসন : পবা উপজেলায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নওহাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভা যাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আলোচনা সভা ও সাস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, নওহাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাক্ষ আবদুল খালেক, সাবেক অধ্যক্ষ আশরাফ আলী, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাক্ষ কাউসার আলী, পবা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এসএম মাদুদ পারভেজ, নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারী খান প্রমূখ। পবা স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
রাজশাহী কলেজ : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করেছে রাজশাহী কলেজ। তিনটি পর্ব ভাগ করে দিনের আয়োজন শুরু করা হয়। সকাল সাড়ে নয়টায় রবীন্দ্র-নজরুল চত্বরে বেলুন উড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান। এরপরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি সম্মুভভাবে ছিলো ‘ শ্বেত-কপাত’ যা বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতির প্রতিক। এছাড়া আবহামান বাংলার নানা সরঞ্জাম বহন এবং লাঙ্গল জোয়াল কাঁধে, চালুন-কুলা হাতে কৃষাণ-কৃষাণী,বরবউ মিলে পালকি সহ বিভিন্ন হাতের মুখোশ। বেলা ১১টায় দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে। এসময় কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করেছে নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ। সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর কামারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম জার্জিস কাদির। আরো উপস্থিত ছিলেন, উপধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফুন নেছা এবং কলেজের শিক্ষক শিক্ষর্থীরা।
ইলা মিত্র শিল্পী সংঘ : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করেছে ইলা মিত্র শিল্পী সংঘ। তালাইমারী শহীদ মিনারে উদযাপনে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মূক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নন। এ সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করেছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করা হয়। সকাল সাড়ে আটটার সময় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ভবন থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডসহ বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রধান ফটক হয়ে আবার কাজলায় ফিরে আসে। শোভাযাত্রা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম. সাইদুর রহমান খান, উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ওসমান গনি তালুকদার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নূরুল হোসেন চৌধুরী, সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ কে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহী ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৈশাখী শোভাযাত্রাটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ হতে শুরু করে লক্ষ্মীপুর মোড় দিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। শোভা যাত্রায় সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, আজীবনসদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রোগী ও শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করেন। অত:পর সমিতির হলরুমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও রাজশাহী ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন নার্সিং কলেজের শিক্ষক মণ্ডলী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীরা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। সকাল ১১:০০ টায় নার্সিং কলেজের হলরুমে ছাত্র-ছাত্রীরা এক মনোমুদ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে এবং সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে এই কলেজের কিছু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা : পহেলা বৈশাখ ১৪২৫ উপলক্ষে কেশর হাট ডিগ্রী কলেজ মাঠে শুভ নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ৮টায় বৈশাখী গানের মধ্যদিয়ে। বর্ষবরণ আয়োজনের উদ্বোধন করেন শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলী। শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে আন্তঃ উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে যে সমস্ত ছাত্র/ছাত্রীরা নাচ, গান, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তাদেরকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন এবং দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ইভেন্ট উপভোগ করেন। বর্ষবরণ আয়োজনে শাপলা কালচারাল স্কুল গান, নাচ ও নাটক পরিবেশন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন ও উপস্থাপন করেন কাঞ্চন রায়, ব্যবস্থাপক (কালচার)। শেষে সংস্থার সভাপতি আইয়ুব আলী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এসিআই মটরস: পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এসিআই মটরস দেশব্যাপি ২৬টি স্থানে বিভিন্ন ধরনের বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপি এ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সরকারি কলেজ মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এগ্রিকালচার ডিডি, জেলা তথ্য অফিসার, গ্রাহক, ডিলার ও শুভানুধ্যায়ীসহ এসিআই মটরসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খেলাধুলা যা বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে এসিআই মটরসের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শণী করা হয়। এসিআই পাওয়ার টিলার, ডিজেল ইঞ্জিন, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার, ওয়াটার পাম্পসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি বাজারজাত করণ সচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Don`t copy text!