‘গুজব’ ও অপপ্রচার ঠেকাতে কড়া নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সময় যাতে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কোনোভাবে নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের মূল কারণ গুজবকে ঠেকাতে নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন কেউ বা কোনো গোষ্ঠি যাতে কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ছাড়াতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যে গুজব ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, র‌্যাব, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষই সেটা মনিটরিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মনিটরিং সেল গঠন ছাড়াও পুলিশ এবং র‌্যাব আলাদাভাবে গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মনিটরিং করছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান বলছেন, গুজব প্রতিরোধে রাজশাহী জেলা পুলিশের ডিএসবি শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমানকে প্রধান করে গুজব প্রতিরোধ সেল গঠন করা হয়েছে। যাতে নির্বাচনকালীন জেলায় কোনো ধরনের গুজব ছড়াতে না পারে।
গুজব প্রতিরোধে মূলত কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যে গুজব রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, নাশকতা, সহিংসতা ও গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে সেসব বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে জামায়াত-শিবির এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একসময় বড় ধরনের অবস্থান ছিলো। তার শেকড় এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। তাই সেসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এছাড়া গত দুই বছরে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোদাগাড়ী মিলে তিনটি জঙ্গি আস্তানায় ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তারাদের অনুসারীরাও সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে এই অঞ্চলে জামায়াত-শিবিরের ত-বে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেই এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। অসংখ্য গাছ কেটে ফেলে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের এক সদস্যকেও হত্যা করা হয়েছে। ফলে এবারো যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক শিবলী মোস্তফা জানান, নির্বাচনকালীন যাতে কোনো ধরনের গুজব মাথাচাড়া দিতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশকিছু তথ্যও পেয়েছি। সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে আমরা কাজ করছি বলে জানান তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে অনেক বেশি। এর আগের কোনো সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবতে হয়নি। তাই এ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোরও উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। তারা বলছেন, দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন বলছে, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কেউ যদি কোথাও নির্বাচন বানচালের উস্কানি দেয়-তবে তা ঠেকাতে দরকারে এমনকি সেই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় গুজব ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরেই একটি সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সারাদেশের পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে ও সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থায়ীভাবে এ বিষয়ে পুলিশের নতুন একটি ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিটটি গঠনের প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যাতে কোনো অবস্থাতে কেউ গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পোস্ট, ফেক আইডি, ভুয়া খবর -এগুলো যাচাই করার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে কেউ কোনো ধরনের গুজব ছড়াতে না পারে সেদিকেও বিশেষ লক্ষ্য রেখে কাজ করছে পুলিশের সদস্যরা। এইজন্য বিভিন্ন পেজ মনিটরিং করা হচ্ছে। ভুয়া খবরগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।