গুজরাতের এক অঞ্চলের অবিবাহিত মেয়েরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অবিবাহিত মেয়েরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি নি¤œবর্ণের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। আর যদি যুগল স্বেচ্ছায় বিয়ে করেও ফেলেন। তাহলে মা-বাবার জরিমানা হবে। এমনই কঠোর শর্ত আরোপ করেছে গুজরাতের বানসকান্থা জেলার ঠাকুর সম্প্রদায়।
১৪ জুলাই সম্প্রদায়ের গুরুজনরা বৈঠকে বসেছিলেন। যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এই শর্তগুলি মেনে নেয়া হয়েছে। দান্তিওয়াড়া জেলার ১২টি গ্রামের ক্ষেত্রে এই কঠোর শর্ত কার্যকর হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ঠাকুর সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি। এলাকার কংগ্রেস বিধায়ক গানিবেন ঠাকুর এই শর্তে কোনও ভুল দেখছেন না। তিনি বলেছেন, ‘অবিবাহিত মেয়েদের মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই ভাল। তার চেয়ে পড়াশুনায় মন দিক মেয়েরা।’ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও অবিবাহিত মেয়ে যদি মোবাইল ফোন সহ ধরা পড়েন। তবে তাঁর মা-বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। ঠাকুর সম্প্রদায়ের তরফে মা-বাবাদের বলা হয়েছে, কলেজে পড়া মেয়েদের যেন মোবাইল ফোন না দেয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নি¤œবর্ণের সঙ্গে বিয়ে দিলে মা-বাবার দেড় থেকে দু’লাখ টাকা জরিমানা হবে। তবে ঠাকুর সম্প্রদায়ের প্রধান সুরেশ ঠাকুর বলেছেন, ‘মোবাইলের বদলে মেয়েদের ল্যাপটপ দেয়া যেতে পারে। এতে পড়াশুনার সুবিধা হবে। মোবাইল ফোন সঙ্গে থাকলে মেয়েরা ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করে।’ বৈঠকে আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, বিয়েতে অতিরিক্ত খরচ না করা। গান-বাজনা এমনকি বাজির প্রদর্শনীও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি বিয়েতে শোভাযাত্রার বিষয়েও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সুরেশ ঠাকুর বলেছেন, ‘বিয়ের খরচা বাঁচিয়ে তা সম্প্রদায়ের বাচ্চাদের পড়াশুনায় খরচ করা হবে।’ ঠাকুর সম্প্রদায়ের গুরুজনরা বলেছেন, এই নিয়মকে যাঁরা চ্যালেঞ্জ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিধায়ক অল্পেশ ঠাকুরও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আজকাল