গুরদাসপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিচার দাবি

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০১৯, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোর আদালতে মামলা করার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোনো সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতেই সাংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের খালেদা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা বেগম জানান, আমার ছেলের সঙ্গে রুপালী পারভিনের বিয়ে হওয়ার আগে আরো দুই জায়গায় তার বিয়ে হয়েছিল। এ ঘটনা না জেনেই আমরা ওই দুইবার তালাকপ্রাপ্ত সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নাদোসৈয়দপুর গ্রামের ফজলু শেখের মেয়ে রুপালীর সঙ্গে আমার ছেলে আবদুল খালেকের বিয়ে দেই। বিয়ের পরে জানতে পারি সে দুই সংসার ছেড়ে তৃতীয় সংসারে আমাদের বাড়িতে এসেছে। কিন্তু বিয়ের পরও রুপালী তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী চাঁচকৈড় গারিষাপাড়ার সাকিল হোসেনের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এ বিষয়ে পরিবারের লোকজন মানা নিষেধ করলেও রুপালী সকল বাধা উপেক্ষা করে সাকিলের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করে। এক পর্যায়ে এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে রুপালী তার শ্বশুর আবদুল মজিদ শেখ, শাশুড়ি খালেদা বেগম ও স্বামী আবদুল খালেকের কাছে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করে। এ ঘটনায় গত ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই বিকেলে রুপালীর মামা আজাদ, কালাম, ভাই আনিস, পিতা ফজলু ও মা রুবি দলবদ্ধ হয়ে মজিদ শেখের বাড়িতে এসে হাঙ্গামা শুরু করে। এসময় তারা খালেকের মা খালেদা বেগমকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম করে। পরে খালেক ও তার মেয়ে স্বর্ণাকে বেধড়ক মারপিট করে তার গলা থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। তাদের শয়ন ঘরেও হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং রুপালীকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা বেগম বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ওই দুর্ধর্ষ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য রুপালীকে দিয়ে শ^শুর মজিদ শেখ ও স্বামী আবদুল খালেকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করায় আমার ছেলে আবদুল খালেক দেড়মাস কারাগারে ছিল।
পরবর্তীতে সুষ্ঠু ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার স্বার্থে রুপালীর মামা আজাদ, কালাম শেখসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নাটোরের আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। নাটোরের আদালত ঘটনাটি সুরাহর লক্ষ্যে গুরুদাসপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মতে গুরুদাসপুর পৌর মেয়র ওই মামলার বাদী ও আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য পর পর চারবার নোটিশ দিলে বাদীরা পৌরসভায় হাজির হয়েছে।
কিন্তু বিবাদীরা পৌরসভার নির্দেশকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে মামলার সুবিচার ব্যহত হচ্ছে। এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আদালতের কাছে সুষ্ঠু ও ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী খালেদা বেগম।