গুরুদাসপুরে অস্ত্রপচারের পর প্রসূতির মৃত্যু ৫৮ হাজার টাকায় সমঝোতা

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসদরের ‘ডাক্তার নোমান ক্লিনিকে’ তানিয়া (২২) নামে এক প্রসূতি গৃহবধূর অস্ত্রপচারের পর গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরে প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে ওই দিনই ৫৮ হাজার টাকায় সমঝোতার পর লাশ দাফন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানিয়ার বাড়ি পৌর শহরের তাড়াশিয়াপাড়া মহল্লায়। তার স্বামীর নাম মাসুদ আলী। ৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। এটাই ছিল তানিয়ার প্রথম মা হওয়ার অনূভুতি। তানিয়ার পরিবার জানায়, গত এক ডিসেম্বর অস্ত্রপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের জন্য ডাক্তার নোমান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল তানিয়াকে। দুই ডিসেম্বর তার অস্ত্রপচার করেন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক সোহেলি নাজনীন। অস্ত্রপচারের পর একটি ছেলে সন্তান হয়। তারপর থেকেই তানিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তানিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা দিয়েও পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার মারা যায় তানিয়া। বুধবার শেষ বিকালে তার লাশ গুরুদাসপুরে আনা হয়। তানিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অপারেশনে ত্রুটি থাকার কারণে তানিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
ডাক্তার নোমান ক্লিনিকের চিকিৎসক সোহেলি নাজনীন দাবি করেন অপারেশন যথাযথ ছিল। কিন্তু ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যাথলজিস্ট শারমিন আক্তার রক্তের গ্রুপ ভুলভাবে নির্ণয় করে অন্যগ্রুপের রক্ত তানিয়ার শরীরে পুশ করায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ব্যাপারে প্যাথলজিস্ট শারমিনের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
ক্লিনিক ম্যানেজার মানটু মিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকে প্যাথলজিস্ট শারমিন ক্লিনিকে অনিয়মিত আসছেন। তিনি মুঠোফোনও ব্যবহার করেন না। রোগির মৃত্যু ও ভুল চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার খরচ বাবদ রোগির পরিবারকে ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে তানিয়ার পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে। সমঝোতার কপিও আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাই পত্রিকায় লিখে লাভ হবে না।’
নাটোরের সিভিল সার্জন আজিজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তানিয়ার শ্বশুর আবদুল খালেক বলেন, একটি বিশেষ মহলের চাপের মুখে বিষয়টি আপোস করতে বাধ্য হয়েছি। সমঝোতার টাকা মেয়ের বাবা আবু তালেব নিয়েছেন। তালেব মিয়া জানালেন, চিকিৎসার খরচের টাকা সমঝোতা হিসেবে নিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে মেয়েকে দাফন করা হয়েছে। দুধের শিশুটি তার হেফাজতে রয়েছে। মামলা করে নতুন করে বিড়ম্বনায় জড়াতে চাই নি বলেই, সমঝোতা মেনে নিয়েছি বলে জানান তিনি।