গুরুদাসপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক তায়জুল ইসলামকে (৩৩) পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার তাকে পিটানো হয়েছে বলে জানান ওই যুবলীগ নেতা।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার তায়জুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবু ও তার সহযোগী মো. সুরুজ, সেকেন্দার আলী, মো. দুলাল, ফরিদ হোসেন, মো. আ. হান্নান, আ. মোমীন. মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. বয়েনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এদের মধ্যে মো. দুলাল ও ফরিদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


এদিকে যুবলীগ নেতাকে হাত-পা ভেঙে দেয়া ও অনিয়মের অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা অন্য আটজনকেও হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার শেষ বিকেলে নাজিরপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইউনিয়ন যুবললীগ। ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক জালাল শাহের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন, নাজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আয়ুব আলী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলাল শেখ ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদ সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক মোল্লা প্রমুখ।

 
সভায় বক্তরা বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবু। এই অনিয়ম নিয়ে যুবলীগ নেতা তায়জুল ইসলামসহ নয়জন বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৭৭ জন বিত্তশালীর নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান লাবু। এ ঘটনায় ঘটনায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত বুধবার চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবু নাজিরপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভা ডেকে অভিযোগকারী নয়জনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার যুবলীগ নেতা তায়জুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে অন্য অভিযোগকারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 
নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তায়জুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার নাজিরপুর বাজার থেকে ব্যাটারি চালিত ভ্যানে বাড়ি যাচ্ছিলাম। চেয়ারম্যানের বাড়ির অদূরে দেলুরমোড় নামক স্থানে পৌঁছালে আসামিরা ভ্যানের গতিরোধ করে আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা টেনে-হেঁচরে চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন গোপীনাথপুর স্কুলমাঠে নিয়ে গিয়ে তারা লোহার রড় ও কাঠের বাটাম দিয়ে পেটায়। এসময় চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবুও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।’ পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পিটুনিতে তার বামহাত ও বাম পা ভেঙে গেছে। ডান পা জখম হয়েছে। তিনি ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

 
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবু দাবি করেন, আমি ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।  কী কারণে যুবলীগ নেতা হামলার শিকার হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে আমিসহ আমার সমর্র্থকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ