গুরুদাসপুরে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে মমিন হত্যা মামলার আসামি জালাল উদ্দিনের দুইহাত কেটে এবং দুই পা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে নিহত মমিনের ভাই, ছেলে ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার সাবগাড়ী রোডে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে ছয় বছর আগে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আক্কাছ মন্ডলের ছেলে মমিনকে (৬০) জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার আসামি একই গ্রামের মৃত আমজাদ মেম্বারের ছেলে জালাল উদ্দিন (৬০)। সে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে নাটোর কোর্টে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে সাবগাড়ী রোডে মোশারফের বাড়ির সামনে নিহত মমিনের ভাই সাইদুল, শরীফ ও ছেলে রফিকসহ ১০/১২ জন চাপাতি দিয়ে জালালের ওপর হামলা চালিয়ে তার বামহাত কেটে নেয়। চাপাতির কোপে জালালের ডান হাতও কেটে যায় এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়া হয়। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় জালালকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষনিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান। কেটে নেয়া হাত এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মালেকসহ অনেকে জানান, যোগেন্দ্রনগর গ্রাম এখন ক্রাইমজোনে পরিণত হয়েছে। শক্ত পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবেনা।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, হাত পা কেটে নেয়া, হত্যা করা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার মত নানা ঘটনায় এলাকার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এর তিনমাস আগেও ওই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে মমিনের (৩৭) হাত কেটে নেয়া হয়। তার আগে একই গ্রামের কোবাদ হাজির ছেলে মোজামের (৩৮), ওসমানের ছেলে খালেক (৩৬) ও করম আলীর ছেলে খালেকের (৫৭) হাত কেটে নেয়া হয়। আর এসব ঘটনা পারিবারিক কলহের জের ধরেই ঘটেছে। মাত্র পাঁচ-ছয়টি পরিবারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয়রা জানান, তারা পরস্পর আত্মীয়।