গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ ।। দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ ৭৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের ৭৪ শিক্ষক-কর্মচারীরা দুই মাস  (নভেম্বর-ডিসেম্বর) ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ওই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বর্তমান অধ্যক্ষের কার্যক্রম বন্ধ চেয়ে  উচ্চআদালতে রিট-পিটিশন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজসুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৮এপ্রিল কলেজটি সরকারি করণের পর ৩০ জুন বগুড়া আজিজুল হক সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো.আলী আশরাফ (৪৯৯১) নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে এখানে যোগদান করেন। কিন্তু সাবেক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিমকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি।
এঘটনার প্রেক্ষিতে  সাবেক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বর্তমান অধ্যক্ষ আলী আশরাফের কার্যক্রম স্থগিত  চেয়ে গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টে রিটপিটিশন দায়ের করেন। আদালত অধ্যক্ষ আলী আশরাফের পদায়ন ও বদলীতে চার মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এর পর থেকে সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের সকল আয় ব্যয়নসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, সাবেক অধ্যক্ষের রিট-পিটিশন করায় কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয় করণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মচারীরা কয়েক দফা  মিছিল, মানববন্ধনসহ অনশন কর্মসুচি পালন করে। বর্তমানে বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন তারা।
সাবেক অধ্যক্ষ মো.রেজাউল করিম বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অবহিত হবার পর বর্তমান অধ্যক্ষ আদেশটির আলোকে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেন নি। তিনি নিয়মিত কলেজে আসছেন, অফিসও করছেন। উপরন্ত বর্তমান অধ্যক্ষ কিছু শিক্ষক কর্মচারীকে নিজের পক্ষে নিয়ে তার করা রিট পিটিশন তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।
এ বিষয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ আলী আশরাফ বলেন, তিনি আদালতের আদেশের কপি হাতে পাননি। তবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ কারনে তিনি বেতন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। তবে নিয়মিত অফিস করছেন তিনি। সাবেক অধ্যক্ষকে চাপ সৃষ্টির অভিযোগটি অস্বীকার করেন তিনি।