বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

গুলশান জঙ্গি হামলার রায় উজ্জ্বল ভাবমূর্তির বাংলাদেশ

আপডেট: November 29, 2019, 1:20 am

তিন বছর আগে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ২২ জনকে হত্যার দায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সম্পর্কির প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যমেও জায়গা করে নেয় এই মামলার রায় ঘোষণার সংবাদ।
নিরপরাধ দেশি-বিদেশি মানুষ যখন রাতের খাবার খেতে হলি আর্টিজান বেকারিতে যায়, তখনই আকস্মিকভাবে তাদের ওপর নেমে আসে জঙ্গিবাদের ভয়াল রূপ। জঙ্গি সন্ত্রাসীরা শিশুদের সামনে এ হতাকাণ্ড চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য জঙ্গিরা নিথর দেহগুলোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় হলি আর্টিজান বেকারি।
ওই হামলায় জঙ্গিরা জবাই ও গুলি করে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানের সময় ও পরে হাসপাতালে মারা যায় হলি আর্টিজান বেকারির দুই কর্মচারী।
কলঙ্কজনক এ হামলার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হরণের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এর ফলে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য পরিচিত বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থার প্রসারের মধ্যে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে একদল তরুণের ওই আত্মঘাতী হামলা বাংলাদেশকে বদলে দেয় অনেকখানি। এই ঘটনার পর থেকেই জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে নতুন উপলব্ধি জন্ম হয়। এই প্রমাণ জাতির সামনে আসে যে, কেবল মাদ্রাসাপড়ুয়া গরিব ঘরের ছেলেরা নয়, নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া ধনী পরিবারের সন্তানরাও বাড়ি পালিয়ে নিরুদ্দেশ হচ্ছে; জড়াচ্ছে জঙ্গিবাদের ভয়ঙ্কর পথে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, বাংলাদেশ তথাকথিত জিহাদ কায়েমের লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিপন্ন করার এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জেএমবির একাংশ নিয়ে গঠিত নব্য জেএমবির সদস্যরা গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় ও দানবীয় হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্য দিয়ে আসামিরা ‘জঙ্গিবাদের উন্মুত্ততা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ’ ঘটিয়েছে। সাজার ক্ষেত্রে তারা কোনো অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারে না।’ মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয় রায়ে।
এটি একটি ঐতিহাসিক রায় বটে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অগ্রগতির জন্য বেশ কয়েকটি অভীষ্টের সূচনা করেছে। এটা আগামী দিনের পথনির্দেশক হিসেবে জাতিকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও সতর্ক করবে। বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র- যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এই রায়ে ঘটেছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে দেশে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হয় তা ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে। একই সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ যে টিকতে পারে না সেটাও প্রমাণ হয়েছে। মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইনের শাসনের অরেকটি নতুন ধাপে উন্নীত হলো- যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। আর জঙ্গিরা জেনে গেল অপরাধ করলে তার জন্য শাস্তি অনিবার্য। বর্তমান সরকার জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে পেরেছে বলেই জঙ্গিদের কঠোর হস্তে দমন করা গেছে। সরকারের এই কৃতিত্ব আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত ও প্রশংসিত। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবেই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি নতুন উচ্চতায় নিতে সক্ষম হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ