গৃহ ঋণে কমছে সুদের হার, বাড়ছে পরিমাণ

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



গৃহনির্মাণ ঋণে সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশন। একই সঙ্গে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি গৃহ ঋণ প্রদানকারী সংস্থাটির প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
হাউজ বিল্ডিংয়ের পক্ষ থেকে বাড়ি নির্মাণ খাতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতি উন্নত এলাকায় ঋণের সুদ বিদ্যমান ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতি উন্নত এলাকা বাদে বিদ্যমান ১০ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ফ্ল্যাট ক্রয়ে ঋণ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ঋণে সুদহার কমানোর পক্ষে যু্ক্িত দিয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গৃহ ঋণে ব্র্যাক ব্যাংকের সুদের হার সাড়ে ৯ শতাংশ; ইস্টার্ন ব্যাংকের সাড়ে ৮; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৯; সিটি ব্যাংকের ৮ দশমিক ৭৫; আইএফআইসি ব্যাংকের সাড়ে ৯; আইডিএলসি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৯; ডিবিএইচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯ এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে ১০ শতাংশ সুদ বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং হাউজ বিল্ডিংয়ের ঋণেও সুদের হার কমানো যেতে পারে।
ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্পোরেশনের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ৩ কাঠা প্লটে ৬-৭ তলা বাড়ি নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন করে থাকে।
পিডব্লিউডি শিডিউল-২০১৪ অনুযায়ী এ কর্পোরেশনের ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একজন ঋণগ্রহীতা ওই ৩ কাঠা প্লটে দুই বা আড়াই তলার বেশি নির্মাণ করতে পারেন না। ফলে একজন ঋণগ্রহীতা ঋণে নির্মিত ভবনে নিজে বসবাস করে অবশিষ্ট অংশে ভাড়ার টাকা দিয়ে কর্পোরেশনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন না।
কর্পোরেশন থেকে দ্বিতীয় বন্ধক অনুমোদন দেয়ার নিয়ম প্রচলিত নেই। অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানও দ্বিতীয় ঋণ অনুমোদন করে না। অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সিলিং বেশি থাকায় এবং কর্পোরেশনের ঋণের সিলিং ৫০ লাখ টাকা অপ্রতুল হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীর ঋণগ্রহীতারা কাঙ্ক্ষিত বাড়ি নির্মাণ না করতে পেরে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলার অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবাসন খাতে ঋণের সিলিং সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টাকা। হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরী এলাকায় আবাসন খাতে কর্পোরেশন ঋণের প্রবাহ সঙ্কুচিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের সিলিং বিদ্যমান ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করা জরুরি প্রয়োজন। হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী জাগো নিউজকে এ প্রসঙ্গে বলেন, আইডিবি’র ঋণ সহায়তায় পাওয়া ২০০ কোটি টাকা সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অনুযায়ী সবার জন্য আবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে পল্লী ও উপ-শহর এলাকায় আবাসন খাতে ঋণ বিতরণ করা যাবে। সুতরাং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীতে নিজস্ব তহবিল থেকে বিদ্যমান সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি পরিমাণ ঋণ বিতরণ করলেও ঋণ তহবিলের কোনো ঘাটতি হবে না। ব্যাংকিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ণ খাতে ঋণের সিলিং বাড়ানো ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকিং বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে সভায় হাউজ বিল্ডিংয়ের এ প্রস্তাব বিবেচনা করা হয় এবং ঋণের সিলিং বাড়ানো ও সুদের হার কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়। আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠকে এ বিষয় চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।