গোদাগাড়ীতে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন টমেটো || ভালো দাম পেলেও ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৭, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


গোদাগাড়ী উৎপাদিত শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো সংরক্ষণের অভাবে খোলা জায়গায় পড়ে আছে সোনার দেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অর্থকরি ফসল হিসেবে পরিচিত শীতকালীন টমেটো উঠতে শুরু করেছে। দাম ভালো পেলেও ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছে কৃষক। গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে বঙ্গবীর, ভিএল ৬৪২, ইউএসএ-নসিব নামীয় হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধুবীজের ইউএসএ-নসিব নামীয় টমেটোর বীজ রোপণ করা হয়েছে ২৩০ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা জানান, ২০ বছর ধরে ধান, গমসহ অন্যান্য ফসলের সঙ্গে টমেটো চাষ করে আসছেন তারা। গত বছর টমেটো চাষ করে লাভবান হওয়ায় চলতি মৌসুমে টমেটোর চাষ বেড়েছে। কিন্তু বীজ খারাপ ও শীতের আবহাওয়া বিরাজ না করায় টমেটোর ফলন কম হচ্ছে। মহিশালবাড়ীর টমেটো চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, গত বছর ২ বিঘা জমিতে নসিব নামীয় বীজ রোপণ করে ভালো ফলন পাই। এবার গোদাগাড়ী লালবাগে বন্ধুবীজের কাছ থেকে নসিব নামীয় হাইব্রিড বীজ রোপণ করে প্রতারিত হয়েছি। গাছে ফল আসলেও টমেটো বড় হচ্ছে না। প্রতিটি টমেটোর নিচের অংশ সাদা। এতে করে চলতি মৌসুমে ইউএসএ-নসিব নামীয় টমেটোর ফলন না পাওয়ায় ৩ শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ভিএল ৬৪২ বঙ্গবীজ, ৮৩ ও ২৩ সহ বিভিন্ন নামীয় হাইব্রিড জাতের টমেটো জমি থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করেছে। আধা পাকা প্রতি মণ টমেটো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার মহিশালবাড়ীর কৃষক সুমন আলী গত সপ্তাহে ১১ বিঘা জমিতে ৩০ মণ টমেটো সংগ্রহ করেছেন। আধা পাকা প্রতি মণ টমেটো বিক্রি করেছেন ২ হাজার টাকায়। কৃষক সুমন আলী জানান, চলতি মৌসুমে ১১ বিঘা জমিতে বিএল-৬৪২ ও বঙ্গবীজ নামীয় জাতের টমেটো চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আরও ৪ হাজার টাকা খরচ হবে বলে এই টমেটো চাষি জানান। উপজেলার লাকড়াদিঘির কৃষক সোহেল ২৫ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত এই কৃষক ৩ মণ টমেটো সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন। কৃষক সোহেল জানান, শীতের আবহাওয়া বিরাজ না করায় টমেটোর ফলন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। সেই সঙ্গে বীজ খারাপের জন্য টমেটোর ফলন এবার কম হয়েছে। ২৫ কাঠা টমেটো চাষে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। বসন্তপুরের কৃষক আফজাল হোসেন ১০ বছর ধরে টমেটোর চাষ করে আসছেন। প্রথম দিকে টমেটোর চাষকৃত জমির পরিমাণ বেশি থাকলেও ভালো বীজ না পাওয়ার কারণে টমেটোর চাষ কমিয়ে এনেছেন। চলতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে ভিএল- ৬৪২ নামীয় হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছেন। গত ২ দিন আগে জমি থেকে ২ মণ টমেটো সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন।
গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার মেট্রিকটন টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ কোম্পানি ২ হাজার মেট্রিকটন টমেটো ক্রয় করবে। এতে করে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত টমেটোর ন্যায্যমূল্য পাবে। কৃষিকর্মকর্তা আরও জানান, শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো চাষে তাপমাত্রা কম এবং কুয়াশা বেশি পড়লে টমেটোর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই জন্য শীতপড়ার সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর উৎপাদন বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউএসএ-নসিব নামীয় হাইব্রিড টমেটো চাষিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইউএসএ-নসিব নামীয় বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধুবীজের মালিক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে বন্ধুবীজের দোকান বন্ধ ও মালিক মাহবুব আলমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান। এই প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি ও কৃষক আন্দোলনের নেতা মোখলেুসর রহমান দাবি করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ