গোদাগাড়ীর মাঠ জুড়ে চলছে আমন কাটামাড়াই || ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


বরেন্দ্র অঞ্চল গোদাগাড়ীর মাঠ জুড়ে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটামাড়াই। এ বছর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকরা অনেক খুশি। ধানের উৎপাদন হয়েছে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত। আর হাট বাজারে প্রতিমণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯শ টাকায়।
গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৭ মণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫৬, বিনা-৭, স্বর্ণা ও ভারতীয় জাত হুটরা ধান চাষ হয়েছে বেশি। এর মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাষ হয়েছে ১৭ হাজার হেক্টর। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের হাতিবান্ধার কৃষক জাকির হোসেন ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় লিজ মানিসহ খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকা। কৃষক জাকির হোসেনের পাঁচ বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৮ মণ ধান। বাজারে বিক্রি করেছেন ৯শ টাকা দরে। কৃষক জাকির জানান, প্রতি বিঘায় উৎপাদিত ধান ও খড় (আউড়) বিক্রি করে আয় হয়েছে ২৪ হাজার ৬শ টাকা। অর্থাৎ ধান চাষ করে এক বিঘায় লাভ হয়েছে ১৫ হাজার ৬শ টাকা।
উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের মালকামড়ার কৃষক আবদুল্লাহ ৩৫ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ও ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকা। ১০ বিঘা জমির ব্রি-৪৯ ধান কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে তার। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৭ মণ। উপজেলার গোদাগাড়ী ইউনিয়নের নবগ্রামের কৃষক আবদুস সুকুর ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রতি বিঘায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হলেও ধানের উৎপাদন হয়েছে তার ১৮ মণ। প্রতি মণ ধান ৮৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ধান কাটা-মাড়াই শেষে জমিতে সরিষা ও গমের চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, ব্রি-৪৯ জাতের ধানের জীবনকাল ১৩৫ দিন হলেও ২৫ দিন আগেই ধানের উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জাতের ধান জীবনকালের চেয়ে আগাম ধান পেকে যাওয়ায় ভালো ফলন হচ্ছে। ব্রি-৪৯ ফলন হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ, ব্রি-৫১ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ মণ, ব্রি-৫৬ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ মণ, বিনা-৭ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মণ, স্বর্ণা- ১৫ থেকে ১৭ মণ এবং ভারতীয় জাত হুটরার ফলন হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ। এসব জাতের চাল সুসাদু ও চিকন হওয়ায় হাট বাজারে চাহিদা রয়েছে। তানোর উপজেলার সগুনা গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান ৩২ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছেন। ১০ বিঘা জমিতে পাতামরা (ব্যাকটোরিয়ার ব্লাইড) রোগ দেখা দেয়ায় ফলন কম হয়েছে। এসব জমিতে প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ ধান।
গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর, পাকড়ী ও গোগ্রাম ইউনিয়নের কিছু এলাকায় জমিতে বাদামী ফড়িং (কারেন্ট) পোকার আক্রমণে ধানের ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, ধানে বাদামী ফড়িং আক্রমণের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক স্প্রে করে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রতি বিঘায় দুই থেকে তিন মণ ধান উৎপাদন কম হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, অধিকাংশই জমির ৮০ ভাগ আমন ধান পেকে গেছে। এসব ধান এখনই কাটা-মাড়াই করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো সেচ-সার জমিতে দেয়ায় পোকা ও রোগ বালাই কম দেখা দিয়েছে। এ কারণেই ধানের ফলন ভালো হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ