গ্রুপিং ও লবিং নিয়ে ত্রি-ধারায় বিভক্ত নগর শ্রমিক লীগ

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা শ্রমিক লীগের র‌্যালি-সোনার দেশ

ত্রি-ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে নগর শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০ বছর পূর্তির কর্মসূচিতে তা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। কমিটির নেতাকর্মীরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৫০ বছর পূর্তির কর্মসূচি পালন করেছেন।
এই তিনটি গ্রুপের একটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান খায়ের, আরেকটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোহেল ও আরেকটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাইরন। এর মধ্যে বদরুজ্জামান খায়েরের নেতৃত্বে সকালে, বাইরনের নেতৃত্বে দুপুরে ও সোহেলের নেতৃত্বে বিকেলে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করেছে।
এক গ্রুপের নেতাকর্মীরা বলছেন, কমিটির মধ্যে ব্যাপক গ্রুপিং তৈরি হয়েছে। কেউ কাউকে মানছে না। ভেঙে পড়েছে কমিটির সাংগঠনিক কাঠামো। একে অপরকে দোষারোপ করা, গ্রুপিং ও লবিং করা ছাড়া দৃশ্যত কোনো কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না শ্রমিক লীগের মধ্যে। এইজন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদ দিয়েই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তবে অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীরা বলছেন, সামনে সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে নিজেদের জানান দিতে তারা এ ধরনের কাজ করছে। নেতাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই বলে মত তাদের।
আরেক গ্রুপের নেতাকর্মীরা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে দোষারোপ করছেন। বলছেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন দফতরে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। দলের মধ্যে তৈরি করছেন বিশৃঙ্খলা। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীরাও তাকে পছন্দ করেন না। তাদের পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগকে ভোটও দেয় না।
নগর কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান খায়ের বলেন, দলের ৯০ শতাংশ নেতাকর্মী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামকে পছন্দ করে না। তার নেতৃত্ব কেউ মেনে নিতে চায় না। কারণ সোহেল পিডিবির দফতরে গিয়ে এক প্রকৌশলীকে মারধর করা থেকে শুরু করে দলের মধ্যে নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। নানা অপকর্ম করেছে। তাছাড়া সোহেল দলে অনুপ্রবেশকারী। কারণ তার পরিবারের কেউ কখনো আওয়ামী লীগ করেনি। বরং তার পরিবারের সদস্যরা রাজাকার ছিলেন। এইজন্য আমরা আলাদা কর্মসূচি পালন করেছি। তবে সেখানে শ্রমিক লীগের ব্যানার ব্যবহার করিনি।
নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোহেল বলেন, সভাপতি যে প্রোগ্রাম করবেন এমন কিছুই জানাননি। এইজন্য ব্যানার, ফেস্টুন থেকে শুরু করে কোনো কিছুই তৈরি করেনি। যখন দেখলাম কেউ কোনো প্রোগ্রাম করছে না তখন আমি নিজ উদ্যোগে জাতীয় একটি প্রোগ্রামকে কাভার করতে যা যা প্রয়োজন সব কর্মসূচি পালন করেছি। সভাপতির সাথে তার কোনো বিরোধ নেই বলে জানান তিনি।
তবে আরেকটি গ্রুপের মিছিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, সামনে সম্মেলন তো, এইজন্য নিজেদের জানান দিতে তারা এইভাবে আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন।
তবে আরেকটি গ্রুপের নেতা বর্তমান কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাইরন বলেন, নগর শ্রমিকলীগের কমিটিতে তিনটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বয়কট করেছে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা। এইজন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়েই শ্রমিকলীগের পক্ষ থেকে বিশাল বড় র‌্যালি করেছি আমরা। কারণ বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলকে সংগঠিত করা বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে লবিং ও গ্রুপিং করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কর্মসূচি : নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোহেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, ফেস্টুন উড়িয়ে দলীয় কার্যালয়ে কেক কেটে সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিসহ জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার কবরস্থান জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল করেছে। জাতীয় শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগরের ব্যানারে র‌্যালিটি বিকেলে নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাদিরগঞ্জে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনসহ তার রুহের মাগফেতার কামনা করা হয়। দোয়া মাফফিলের মাধ্যমে সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি শেষ হয়।
কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ওয়ালি খান ও জাতীয় শ্রমিক লীগ নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোহেল। আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক। সহ-সভাপতি শামসুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. আইনুল হক, সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক কাবাতুল্লাহ ও জয়েদ আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও লিয়াকত আলী, অর্থ সম্পাদক আফজাল, মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শমীম উদ্দিন ও মোঃ আখতার আলী, ত্রাণ ও পুর্নবাসন সম্পাদক রাসেদুল ইসলাম মিলনসহ নেতাকর্মীরা।
এছাড়া নগর শ্রমিক লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাইরনের নেতৃত্বে জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। তারা নগরীর সাহেব বাজার স্বর্ণপট্টি হতে র‌্যালি নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমারপাড়াস্থ আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে স্বাধীনতা চত্বওে সমাবেত হন। পরে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। নগর শ্রমিক লীগের আয়োজনে র‌্যালিতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কর্মচারী সংসদ সিবিএ, বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী লীগ, নেসকো, পিডিবি, সোনালী ব্যাংক ইউনিয়ন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন, শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন, স্বর্ণ শিল্প শ্রমিক লীগ, বস্ত্র শ্রমিক লীগ, পোস্টাল একাডেমি, ডাক বিভাগ, বিআরডিবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিএনজি শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
র‌্যালি শেষে নেতৃবৃন্দ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সিবিএ এর অফিস কক্ষে শ্রমিক লীগের জন্মদিনের কেক কাটেন ও আলোচনা সভা করেন। সভায় শ্রমিক নেতা আব্দুল হান্নান, আব্দুস সালাম, ওমর ফারুক, মুহাজার আলী, হুমায়ন কবীর লালু, সাইদুল ইসলাম রাজু, সেলিম রেজা বাইরন, নাঈম বাবু, মেসবাউল হক, সালাউদ্দিন, আকতার হোসেন, হাসানুজ্জামান ফিরোজ, আনোয়ার হোসেন, তাজু, জামাদুল, পার্থ, সুমন, নবাব, ও শাহিন শাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০তম সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে নগর ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমবায় সমিতির উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগ রাজশাহী মহানগরের বদরুজ্জামান খায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. তৌফিক এলাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেনসহ ইজিবাইকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শরিফুল ইসলাম সাগর. গহ-সভাপতি মো. আসাদ, মো. আসলাম, মো. সিরাজুল, মো ইদ্রিস যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রিমন মোহাম্মদ, আজাদ, মহিদুল জামাল কোষাধাক্ষ হাবিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী জেলা শ্রমিক লীগ : জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শ্রমিক লীগ রাজশাহী জেলা শাখা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রথমে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে ফেস্টুন, বেলুন উড়ানোর মধ্যে দিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে সিঅ্যানবি মোড় হতে জিপিও প্রদক্ষিণ করে মিন্টু চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমেটির সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নূর-কুতুব-আলম মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আজম মিন্টু।
জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজশাহী জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজশাহী জেলা শাখার সহসভাপতি খোকন শেখ, আবু বকর সিদ্দিক, রাজু আহম্মেদ, জীবন, মসসিন কবির, আবদুুর রাজ্জাক, গৌতম সরকার, মুরাদ আলী পলাশ, আতাউর রহমান, দ্বীন মোহাম্মদ ও শাহনেওয়াজ প্রিন্স প্রমুখ।
সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকলীগ প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে রাজপথে থাকার অনুরোধ জানান। পরে কেক কেটা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ