ঘাটালে ভোটগ্রহণ শান্তিতেই দাসপুরে টিফিন ভাগাভাগি করে খেলেন শাসক ও বিরোধী দলের কর্মীরা

আপডেট: মে ১৬, ২০১৮, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল, সংবাদদাতা: দু’-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ঘাটাল ব্লকের পাঁচটি ব্লকে ভোটগ্রহণ পর্ব মিটেছে শান্তিতেই। তবে, ধীর গতিতে ভোট হওয়ায় অনেক বুথেই ভোটগ্রহণ শেষ হতে রাত ৭-৮টা বেজে যায়। এদিন চন্দ্রকোণা-১ ব্লকে বিরোধীদের দু’টি বাইক পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চন্দ্রকোণা-১, দাসপুর-১ এবং ঘাটাল ব্লকের কয়েকটি জায়গায় সিপিএম ও বিজেপি কর্মীদের মারধর করে বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও শাসকদল সেসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘাটালের মহকুমা নির্বাচন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিবার্চন নিয়ে তেমন কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ।
রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও দাসপুর-২ ব্লকের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ভোটারদের মুখে ছিল হাসি। সকাল থেকে বুথে বুথে ছিল লম্বা লাইন। অনেক জায়গায় শাসকদল ও বিরোধীরা পাশাপাশি টেবিল পেতে বুথ করে গল্প করে কাটিয়েছেন সারাদিন। এক দলের মুড়ি অন্য দলের কর্মীরা খেয়েছেন। মহকুমার মোট পাঁচটি ব্লকের মধ্যে দাসপুর-২ ব্লকের নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের কোনও অভিযোগ নেই। সিপিএমের জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য সমর মুখোপাধ্যায় বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন চন্দ্রকোণা-২ ব্লকে বিরোধীদের কোনও অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়নি। যেটুকু উত্তেজনা ছিল তা তৃণমূল ও তাঁদের গোঁজ প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই ঘিরে। চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ওই পঞ্চায়েত সমিতির আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তৃণমূলের দিলীপ নাগ। তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের এক নেতা তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থীকে জেতানোর জন্য এদিন প্রচার করেন। তাই তিনি নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিন চন্দ্রকোণা-১ ব্লকেও বেশিরভাগ বুথে বিরোধীদের দেখা পাওয়া যায়নি। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ রায় এবং বিজেপির ঘাটাল লোকসভা সাংগঠিনক জেলার সম্পাদক সুশান্ত ম-ল বলেন, তৃণমূলের সন্ত্রাসের জেরেই আমরা দলের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। যেসমস্ত জায়গায় আমারা এজেন্ট দিয়েছি, সেখানে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। নেতাদের হাত থেকে মহিলা কর্মীরাও রেহাই পাননি।
সুশান্তবাবুর অভিযোগ, পুলিসের সামনেই ওই ব্লকের বিভিন্ন বুথে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। ওই ব্লকের ডিঙাল বুথে বিরোধীদের দু’টি বাইক পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দাসপুর-১ ব্লকের বেশ কয়েকটি বুথে তৃণমূল কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ। ওই ব্লকের নিজনাড়াজোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী সহ বিজেপির চার কর্মী জখম হয়েছেন। তাছাড়া এদিন ভোটের শেষের দিকে দাসপুর-১ ব্লকের নাড়াজোল, রাজনগর, চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মনোহরপুর-২, মানিককু-ু এবং ঘাটাল ব্লকের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ও বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছে।
যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি তথা জেলা পরিষদের বিদায়ী শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র। তিনি বলেন, সকালে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদান দেখেই বিরোধীরা বুঝে যায়, ওদের শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত। তাই আমাদের বিরুদ্ধে মনগড়া সব গল্প ফাঁদে ওরা। তথ্যসূত্র: বর্তমান