ঘুষ ছাড়াই পুলিশে কনেস্টবল নিয়োগ প্রত্যাশার শুরুটা হলো কি?

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৯, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই ৮৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। ৭ জুলাই পুলিশ কনস্টেবল পদে এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সূত্রে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিদবেদনের তথ্য অনুযায়ী ৭ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ ওই তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, কোনো রকম অনিয়ম ছাড়াই ৮৮ জনকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ৪৪ জন ও মেয়ে ৪৪ জন। ছেলেদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা কোঠায়, তিনজন পুলিশ পোষ্য কোঠায়, দুইজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোঠায় আর ২৮ জন সাধারণ মেধায় নিয়োগ পেয়েছে। এদিকে মেয়েদের মধ্যে সাধারণ মেধায় ৪২ জন, পুলিশ পোষ্য কোঠায় একজন ও মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় নিয়োগ পেয়েছে একজন। ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও তিন টাকার ফরম ছাড়া কোনো টাকা লাগেনি এ নিয়োগে। এক কথায় ১০৩ টাকায় এ নিয়োগ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
এবারই কনেস্টবল নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে খোদ পুলিশ বিভাগকে বেশ তৎপর হতে দেখা গেছে। দুর্নীতিবিরোধী সতর্কিকরণ ঘোষণা দিয়ে এবং ঘুষবিরোধী মনোভাব থেকেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ নিয়োগ শুধু রাজশাহীতেই হয় নাই দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ওই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা স্বভবতই উচ্ছ্বসিত এবং তারা নানাভাবে তাদের আবেগ-উচ্ছ্বাসের কথা সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন। অনেকেই চাকরিতে যোগদানের আগেই শপথ নিয়ে ফেলেছেন, চাকরি জীবনে তারা দুর্নীতির আশ্রয় নিবেন না। যেহেতু তারা ঘুষ ছাড়াই চাকরি পেয়েছেন।
এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি একটি নতুন মূল্যবোধেরও জন্ম দিয়েছে। যারা চাকরি পেয়েছেন- তাদের অনেকেই ঘুষ নিবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এ অঙ্গীকারের কারণটিও তারা ব্যক্ত করেছেন যে, যেহেতু ঘুষ ছাড়াই তাদের চাকরি হয়েছে। এ দায়টি তাদের ভেতর থেকেই এসেছে। বাড়ির জমি কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বেঁচে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলে মূল্যবোধের শক্তিটা নিশ্চিতভাবে তাদের মধ্যে আসতো না। পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগে এটা আপাত সফলতা বলা যায়। কিন্তু যারা এই শপথের সূচনা করলেন তারা কি শেষ পর্যন্ত তাদের সেই শপথ রক্ষা করতে পারবেন? পুলিশের চেইন অব কমান্ডের শেষ ধাপের কর্মচারী হলেন কনেস্টবলরা। তারা নির্দেশ মানতেই অভ্যস্ত হবেন, কাউকে নির্দেশ করার তার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এই কনেস্টবলেরা যাদের নির্দেশে চালিত হবেন তারা সৎ না বলে কনেস্টবলেরা কতটুকু সৎ থাকতে পারবে?
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কনেস্টবলেরা যে শপথে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে চায়Ñ তা যদি প্রকৃত অর্থে পুলিশের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অঙ্গীকার হয় তবেই তা সম্ভব হবে। তবুও পুলিশের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই আশাব্যঞ্জক মনোভাবের সূচনা করেছে। পরিবর্তনের সূচনাটা তো হয়েছে। আগামীতে বৃহত্তর আঙ্গিকে সেটা হবে- সেই প্রত্যাশা আমরা রাখতে চাই। রাজশাহী জেলা পুলিশসহ দেশের আর সব জেলার পুলিশ সুপারদের ধন্যবাদ জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ