ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল || শাহজাদপুরে উৎকোচ ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করেন না সাব-রেজিস্ট্রার

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৯, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ঘুষ ছাড়া কোন দলিল পাশ করেন না তিনি। যোগদানের পর থেকেই দলিল প্রতি তিনি ১ হাজার ৫ শ’ থেকে ৩ হাজার ৫ শ’ টাকা উৎকোচ নিয়ে আসছে। নিরুপায় জনগণ ও দলিল লেখকরা জিম্মি তার কাছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও হয়েছে কয়েক দফা। কিন্তু তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন ঘুষ বাণিজ্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রেজিস্ট্র্রি অফিসে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আলোচনায় এসেছেন নতুন করে।
১৫ আগস্ট রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. সোহেল রানা তার ফেসবুক আইডি থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তার পর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আইডিতে শেয়ারের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমালোচনার ঝড় উঠতে থাকে সোস্যাল মিডিয়ায়।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শাহজাদপুরে যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিস। যেখানে হেবার ঘোষণা পত্র দলিলের জন্য সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪০ টাকা এনফি ২৪০ টাকা সেখানে সরকারি ফি ব্যাতিত প্রতিটি দলিলের জন্য সর্ব নিম্ন উৎকোচ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
গত ২৭ আগস্ট শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতি দলিল প্রতি কমপক্ষে ১৫০০ টাকা দিতে হয়। না দিলে নানা সমস্যা সৃষ্টি করেন। আর এই টাকাগুলি সাব রেজিস্ট্রারের পক্ষে গ্রহণ করেন সুমন নামে একজন নকল নবিশ। এ ব্যাপারে সুমনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সদত্তুর দিতে না পেরে বলেন এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে আপনারা কথা বলেন।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিনে এক ভুক্তভোগী কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের মো. মানিক বলেন, আমি একটি হেবার ঘোষণা পত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে এলে প্রথম দিন আমাকে নানা অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্র্রি না করে পরে আবার আসতে বলেন। আমি পরবর্তীতে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদান করায় রাজি হলে আমার দলিলটি রেজিস্ট্র্রি করে দেন।
সংবাদকর্মিদের তথ্য অনুসন্ধানে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস ও সুমনের উৎকোচ বিনিময়ের ভিডিও হাতে আসে। সোস্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস নিজেই একজন দলিল লেখকের কাছ থেকে উৎকোচ হিসেবে ১হাজার ৫ শ টাকা নিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি দলিলের উৎকোচ বাবদ আনিসকে প্রথমে ৩ হাজার টাকা দিলে আনিস ওই দলিল লেখককে বলেন স্যার ৩হাজার ৫শ’ টাকা দিতে বলেছেন। পরে দলিল লেখক টাকা না দিয়ে সাব রেজিস্ট্রারকে ফোন দিতে বললে আনিস সঙ্গে সঙ্গে সাব -রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসকে ফোন দিয়ে কথা বলে ৩ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে বলেন ৩ হাজার ৫শ’ টাকার কমে হবে না। বাধ্য হয়ে ওই দলিল লেখক ৩ হাজার ৫শ’ টাকাই প্রদান করেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. সোহেল রানা বলেন, আমি নিজে তাকে দলিল সম্পাদনের জন্য কয়েক দফা উৎকোচ দিয়েছি। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস জানান, আমি বা আমার অফিসে কোন প্রকার ঘুষ নেয়া হয় না। যে ভিডিওগুলি ভাইরাল হয়েছে সেগুলো আমাকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, শাহজাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস ভিডিও ভাইরাল হবার বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি গতকাল (বুধবার) সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। ভাইরাল হওয়া যেসব ভিডিও ও ছবি রয়েছে হাতে এসেছে তার কিছু অংশের সত্যতা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্টটি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ