ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ধান নিয়ে বিপাকে তানোরের কৃষকরা

আপডেট: মে ৫, ২০১৯, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


তানোরে বৃষ্টি ভেজা মাঠ থেকে কাটা ধান ঘরে তোলার চেষ্টায় এক কৃষক সোনার দেশ

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে রাজশাহীর তানোরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি, ঝড়সহ বৈরি আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। পাকা ধান ঘরে তোলার সময় দফায় দফায় বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। বিভিন্ন স্থানের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
আবার অনেকেই ধান কাটার পরেও মাড়াইয়ের কাজ করতে পারছেন না। ফলে ওই সব ধানের খড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। তবে কৃষি অফিস বলছে কয়েকদিনের মধ্যে বৈরি আবহাওয়া না হলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না বোরো চাষিদের।
কৃষি অফিস সূত্রে জানিয়েছে, উপজেলায় এবছর ৮ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাষ হয়েছে আরও ৫শ হেক্টর বেশি জমিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টি এবং ভাটি থেকে আসা পানিতে তানোর উপজেলার শিবনদী ও বিলকুমারী বিলের পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে কয়েকশো হেক্টর বোরো ধানের জমি। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিলের কৃষকরা। তানোরের শিবনদী সংলগ্ন চৌবাড়িয়া, কামারগাঁ, তালন্দ, গোকুল, শিতলীপাড়া, কুঠিপাড়া, আমশো, বুরুজ, কালীগঞ্জ ও চাঁন্দুড়িয়া এলাকার অনেক ধান খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবনদী বিলের ধানের জমি পানির নিচে। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে বিলের উঁচু এলাকার জমির ধানও কাটতে পারছেন না কৃষকরা। আর পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কচুরিপানায় ঘিরে ফেলেছে। কোনো কোনো কৃষককে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ নৌকাযোগে ধান কেটে বাঁধে নিয়ে এসে মাড়াই করছেন। আবার যেসব কৃষকের ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে তারা ফসলের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
চিমনা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সাত বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধান চাষ করেছি। গত দুদিনের বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধান মাটিতে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। কাটা ধান বৃষ্টির কারণে মাড়াই করতে না পারায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাটা ধান নিয়ে সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তানোরে চাষিরা বলে তিনি জানান।
কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক কেতাবুল ইসলাম বলেন, ধান কাটা শ্রমিকের দারুন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক ৪ আড়ির জীনের পরিবর্তে ৫/৬আড়ি জীন দিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুদিনের ঝড়বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। শিবনদীতে অধিকাংশ বোরো ধান জমি থেকে উঠানে আগেই উঠেছে। যে সমস্ত কৃষকরা জমি থেকে উঠনে তুলতে পারেনি। তাদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পুরো উপজেলায় তেমন কোন ক্ষতি হয়নি । তিনি আরো বলেন, এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো ঘাটতিও থাকবে না। দুই একদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।