ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব || নওগাঁ ও ঈশ্বরদীতে জমির কাঁচা বোরো ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক

আপডেট: মে ৪, ২০১৯, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

নওগাঁ ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদী (বামে) ও নওগাঁয় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে এভাবে জমির আধাপাকা ধান জমিতে পড়ে যায়-সোনার দেশ

ঘূণিঝড় ফণীর প্রভাবে নওগাঁ ও ঈশ্বরদীতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে কৃষি অফিস জানিয়েছে, দুই একদিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানায়, গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এদিকে শুক্রবার ভোর থেকেই নওগাঁর আকাশে কাল মেঘে ছেয়ে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপি একটানা ভারি বর্ষণ হয়। এরপর ২ ঘন্টা বিরতীর পর দুপুরে থেকে শুরু হয় হালকা বাতাসসহ গুড়ি গুড়ি আবার কখনো মাঝারি বৃষ্টিপাত। নওগাঁ জেলার বদলগাছী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা সদরসহ সকল উপজেলা সদরের দুপুরের পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর জন্য জেলার মানুষের মাঝে বিশেষ করে ধান চাষিরা ব্যাপক আতংকে ছিল।
শনিবার সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। যানবাহনও তেমন একটা চলাচল করেনি।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, নওগাঁ জেলার উপর দিয়ে ঘূর্ণি ঝড় ফণী বয়ে যাবার সম্ভবনা আছে। শুক্রবার থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়োহাওয়া শুরু হয়েছে। এই জেলায় অনেক আধাপাকা ঘর-বাড়ি আছে। ফলে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছি।
নওগাঁর বদলগাছীর আবহাওয়া অফিসের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর রিবন আহমেদ জানান, শুক্রবার থেকে জেলাব্যাপি হালকা বাতাস ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে ঈশ্বরদীতে হাজার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান জমিতে পড়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে এসব অপরিপক্ক ধান কেটে ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। কৃষি অফিস থেকেও এসব ধান কেটে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
গতকাল শনিবার ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে বোরো ধানের জমিতে আধাপাকা এবং অপরিপক্ক ধানের গাছ জমিতে পড়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে এবং ঝড়ো হাওয়ায় ধানের গোছাসহ ধান শুয়ে পড়েছে পানিতে। কৃষকরা জানান, এসব ধান এখনো কাটার উপযোগি হয়নি কিন্তু বাধ্য হয়ে তাদের এসব ধান কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে। সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এবছর আমার ৪ বিঘা জমির সব ধানই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পড়ে গেছে, এসব ধান এখনো কাটার উপযোগি হয়নি। বাঘইলের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, এই এলাকার বোরো ধানের আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েছি। ধান আবাদ করার খরচই তুলতে পারবো না।
ঈশ্বরদী কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে এবছর ঈশ্বরদীতে ২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জমির ধান এখনো আধাপাকা ও কাঁচা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল লতিফ জানান, যেসব জমির ধান ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত পাকতে কম আছে সেসব জমির ধান কৃষকদের কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৭০-৮০ ভাগ পর্যন্ত পাকা ধানও কাটতে বলা হয়েছে।