চলনবিলে বাড়ছে ঢেঁকিছাটা চালের গুঁড়ার কদর || ব্যস্ত গৃহিনীরা

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


গ্রাম বাঙলার ঐহিত্যবাহী ঢেকি দিয়ে পিঠা তৈরির অন্যতম উপকরণ হচ্ছে ঢেঁকিছটা চালের গুঁড়া প্রস্তুত করা হয়-সোনার দেশ

শীত, নতুন ধান আর খেজুর গুঁড়কে ঘিরে চলনবিলের গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পিঠা খাওয়ার উৎসব। পিঠা তৈরির অন্যতম উপকরণ হচ্ছে ঢেঁকিছটা চালের গুঁড়া। একারণে গ্রামের হাতেগোনা কিছু ঢেঁকিওয়ালা বাড়িতে বেড়েছে ব্যস্ততা। কলে ছাটা চালের গুঁড়ায় পিঠার স্বাদ কম হয় তাই ঢেঁকিতে ব্যস্ততা।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সাবাগাড়ি গ্রামের আবদুুস সালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঢেঁকিতে চালের গুঁড়া তৈরি করার প্রতিযোগীতা। সালামের স্ত্রী শহরভানু (৬০) জানালেন ১৫ বছর বয়সে শ্বশুরবাড়িতে এসে এই ঢেঁকি পেয়েছিলেন তিনি। সংসারের অনেক কিছু বদলে গেলেও ঢেঁকিটি টিকিয়ে রেখেছিলেন নিজেদের প্রয়োজনে।
শহরভানুর ভাষ্যমতে, আশাপাশের অনেক গ্রামে ঢেঁকি নেই। একারণে বছর জুড়েই তাদের বাড়িতে থাকা ঢেঁকিতে ভীড় লেগেই থাকে। তবে শীতে ঘরে ঘরে পিঠা খাওয়ার উৎসব শুরু হওয়ায় চালের গুঁড়া তৈরিতে লাইন লেগেইে থাকে।
গেল বৃহষ্পতিবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের কমপক্ষে দশজন গৃহবধূ নতুন আমন ধানের চাল নিয়ে অপেক্ষা করছেন গুঁড়া তৈরি করতে। তাদেরই মধ্যে গৃহবধু সোহানা আক্তার (৪০) ও রিয়া বেগম (৩৫) জানালেন, কলের মেশিনেও চালের গুঁড়া করা যায়। কিন্তু সেই চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি চিতাই পিঠা, ভাপা পিঠা, তেল পিঠা ভাল স্বাদের হয় না। কিন্তু ঢেঁকিছাঁটা চালের গুঁড়ার পিঠার গুনগতমান অটুট থাকে। খেতে স্বাদ লাগে। তাই কষ্ট হলেও ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে এসেছেন তারা।
সাবগাড়ি গ্রামের প্রবীন শিক্ষক ওমর আলী জানালেন, ২০-৩০ বছর আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ঢেঁকির চল ছিল। শীত শুরু হলেই জামাই-মেয়ে, আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে পিঠা খাওয়ার উৎসব শুরু হতো। কিন্তু সময়ের আবর্তে পিঠা খাওয়ার চল কমে গেছে। সেই সাথে ঢেঁকির ব্যবহারও। এখন মেশিনে করা চালের গুঁড়ার পিঠা তৈরি হয়। তার পরও গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ পাড়ার ঢেঁকি খুঁজে চালের গুঁড়ার পিঠা তৈরি করার চেষ্টা করেন পুরাতন স্বাদের পাওয়ার আসায়।
অথচ একটা সময় ছিল ঢেঁকি পাড় দেওয়ার সময় গ্রামের গৃহিণীরা বিভিন্ন সুরে গীত গাইতেন। সেই গীতের সুরেসুরে চলতো ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে চাল থেকে গুঁড়া তৈরির কাজ। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর ঢেঁকিতে তেমন চাল ভাঙাতে দেখা যায়না। ঢেঁকিওয়ালাদের বাড়ি থেকে সেই গীত গাওয়ার শব্দ শোনা যায়না। তবুও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু বাড়িতে ঐতিহ্যবাহি ঢেঁকিতে চাল গুড়া করার শব্দ শোনা যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ