চলন্ত ট্রেন থেকে তেল চুরি || যে অভিযোগের শেষ নেই

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

রেওয়ের তেল চুরির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু চুরির অভিযোগ মোটেও থেমে নেই। চুরি যে হয় তা চুরি বন্ধে বিভিন্ন সময় নেয়া কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপই তার সাক্ষ্য দেয়। তদুপরি চুরির বিষয়টি ঠেকানো যায়নি। চোর সিন্ডিকেটও কৌশল পরিবর্তন করে চুরি অব্যাহত রেখেছে। এই চোর সিন্ডিকেটের সাথে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজসের অভিযাগও আছে। এ ভাবেই লাখ লাখ টাকা মূল্যের তেল (ডিজেল) চুরি যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রভাবশালী তেল চোর সিন্ডিকেট এবার তাদের কৌশল পরিবর্তন করে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে প্রতিদিন লোপাট করছে রেলওয়ের লাখ লাখ টাকার ডিজেল। এই তেল চুরির সঙ্গে সরাসরি রেলওয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈশ্বরদীর রেলওয়ে লেকোশেড থেকে তেল চুরি রোধকল্পে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসানোর পরই চোর সিন্ডিকেট চলন্ত ট্রেন থেকে তে চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈশ্বরদীর পাতিবিল, পাকশী, ভেড়ামারা, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের পূর্ব-পশ্চিমে, আমনুরা, রহনপুর, নওগাঁ, আত্রাই, রাণীনগর, আবদুুলপুর, সিরাজগঞ্জসহ রেলওয়ের বিভিন্ন রুটের ‘নিরাপদ স্থানে’ ট্রেনের গতি কমিয়ে বিশেষ কৌশলে এসব তেল ইঞ্জিন থেকে পাচার করা হয়। যাত্রী ও মালবাহী উভয় ট্রেনেই হয়ে থাকে তেল চুরি, তবে মালবাহী ট্রেনে তেল চুরি সহজ বলে তেল চোররা মালবাহী ট্রেনেই বেশিরভাগ সময় তেল চুরি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তেল চোররা প্রতিনিয়ত ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠে কর্তব্যরত ড্রাইভার (এলএম) ও সহকারী ড্রাইভারদের (এএলএম) প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে তেলের টাংকির সঙ্গে পাইপ লাগিয়ে কয়েক পরতের মোটা পলিথিনের বস্তায় তেল ভর্তি করে। এর পর ওই পলিথিনের বস্তাগুলি চটের বস্তায় ভরে বিশেষ কায়দায় চলন্ত ট্রেনের গতি কমিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেয়। সেখানে অপেক্ষমান তেল চোর সদস্যরা সে সব তেলভর্তি বস্তাগুলি কুড়িয়ে ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে করে নিয়ে যায় তাদের নির্দিষ্ট স্থানে। সেখান থেকে হাত বদল হয়ে এসব তেল খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে।
ট্রেন থেকে তেল চুরির ঘটনা রেলের এক কর্মকর্তা স্বীকারও করেছেন তবে তিনি এই চুরির সাথে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসের বিষয়টি নাকচ করে দেন।
চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ডিজেল চুরির ঘটনা চালকের যোগসাজস ছাড়া সম্ভব নয়। এটা খুব সহজেই অনুমেয়। চালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে ডিজেল চুরি করা মোটেও গ্রহণযোগ্য বক্তব্য নয়। চুরির ঘটনা তদন্তসহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়। ডিজেল ব্যবস্থাপনাগত পদ্ধতির কোনা ত্রুটি থাকলেও সেটারও নিরসন করার উদ্যোগ নিবেন কর্তৃপক্ষ- এটাই প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ