চাঁপাইনববাবগঞ্জে মনিরুল হত্যার বিচারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মনিরুলের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা-সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল হত্যার ঘটনায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য আসামিদের হুমকির মুখে নিহত মনিরুলের অসহায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিহত মনিরুলের স্ত্রী রহিমা বেগম তার পরিবারের নিরাপত্তা ও খুনিদের বিচারের দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রহিমা বেগম বলেন, ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে শিবগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠের সামনে আম বাগানে সিএন্ডএফ’র সাবেক সভাপতি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা আখিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তোহরুল ইসলাম টুটুল, সহসভাপতি সেরাজুল ইসলাম মুন্সিসহ একদল সন্ত্রাসী আমার স্বামীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই দিন রাতেই শিবগঞ্জ থানা পুলিশ পুখুরিয়া এলাকা থেকে রক্তমাখা প্রাইভেট কার, পিস্তুল, গুলির খোসা ও তাজা গুলিসহ তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে। এই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করি।
এ ঘটনায় সোনামসজিদ সিএন্ডএফ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ দ্রুত বিচারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন সময় আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামি আখিরুলের ভাই খাইরুল ও সোনাপুর মাদ্রাসার সুপার আবদুুল মালেক আমার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলে ‘আর মামলা নিয়ে না খেলে প্রত্যাহার করে নাও।’ এ সময় তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ আগেও সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, ডা. শাদেকুল ইসলামসহ কয়েকজন আপোস মিমাংশার জন্য প্রস্তাব দেন।
রহিমা বেগম আরও বলেন, আমার স্বামীর হত্যাকারীদের নিয়ে নিয়ে গত ১২ নভেম্বর শ্রমিক সমন্বয়ের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সোনামসজিদ সিএন্ডএফ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছা সেবকলীগ। এমনকি এই সাদেকুর রহমান মাস্টার আসামিদেরকে মামলা চালানোর জন্য ৮ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করেছেন।
এব্যাপারে শ্রমিক সমন্বয়ের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করলে তাদের মুঠোফোন ০১৭১২-২৭৮৪১১ ও ০১৭৪০-৬৩৯৫৩৮ বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রহিমা বেগম হতাশার সাথে বলেন, যদিও মাননীয় সাংসদ গোলাম রাব্বানী বলেন মনিরুল হত্যার ঘটনা আইনের গতিতে চলবে কিন্তু ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসে একই মঞ্চে আমার স্বামী হত্যার প্রধান আসামিদেরকে নিয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছেন। যা আমার কাছে অত্যান্ত কষ্টদায়ক। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নিহত মনিরুলের বাবা আফজাল হোসেন, মা খাতিজা বেগম, ছোট ভাই মেজর আলী, শ্যালক আলাউদ্দিন ও ছোট ছেলে তাওহীদুল ইসলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ