চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে কলাইয়ের চাষ বাড়লেও কমেছে ফলন || ক্ষতির মুখে কৃষক

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১:২১ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা


মাঠ থেকে সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে কলাইয়ের মাঠাই চলছে-সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে মাষকলাইয়ের চাষ বাড়লেও, কমে গেছে ফলন। সাধারণত কম পরিচর্যা করে এ ফসলটি ঘরে তোলা যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই চরাঞ্চলে মাষকলাইয়ের চাষ করে আসছেন কৃষকরা। তবে গত কয়েক বছর থেকে লাভের মুখ দেখতে পায় নি তারা। এ ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তাদের কোন পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে মাষকলাইয়ের চাষ করে পাঁচ মণ মাষকলাই পেয়েছেন। কলাইয়ের গাছ লম্বায় বড় হলেও, উপরের দিকে কয়টা ফল থাকছে মাত্র, এতে করে ফলন বেশি হচ্ছে না। ধানের জমিতে যে পরিমান সার দেয়া হয়, ধান কাটার পরও জমিতে থাকা সারের গুণাগুণ পরের ফসল কলাইয়ের গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কলাইয়ের গাছ ছোট থাকলেই ফলন বেশি হয়।
গত শনিবার সকালে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির সামনে জড়ো করে রাখা মাষকলাই মাড়াইয়ের কাজ করছেন অনেকেই। ৬০ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম জানান, ‘জমি পতিত রাখা যায় না। ছেলেরা কলাই বুনলেও, এবারও বিঘা প্রতি দুই মণ কলাই পাওয়া গেছে। কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, গত কয়েক বছর আগেও বিঘা প্রতি তাদের ৪-৫ মণ কলাই হতো, কিন্তু এখন তা দুই মণে নেমে এসেছে। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে কলাইয়ের চাষ করতে দুই হাজার টাকা খরচ হয়, আর উৎপাদিত কলাই বিক্রি করে প্রতি মণে ১২শ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পাওয়া যায়।
জুলফিকার আলী ভুট্টু নামে আরেক কৃষক বলেন, জমিতে কোন ফসল করলে ভালো হবে, মাটি পরীক্ষা করে যদি কৃষি অফিসাররা বলে দেয়, তাহলে উপকারে আসে। কিন্তু তারা মাঠেও আসে না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হুদা বলেন, জেলায় এ বছর ২৬ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে মাষকলাই আবাদ হয়েছে। তবে গত অক্টোবর মাসের ২০ ও ২১ তারিখে প্রায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, এ বৃষ্টিতে মাষকলাই গাছের দৈহিক বৃদ্ধি বেশি হয়ে ফলন কমে যায়। প্রাকৃতিক কারণেই এবার ফলন কমে গেছে। এখানে কৃষকরা স্থানীয় জাতগুলো চাষাবাদ করে। তবে, বারি মাষকলাই ২ ও ৩ উন্নত জাত সম্প্রসারণে কাজ করছি। এ জাতগুলোতে ফলন অনেক ভালো পাবেন কৃষকরা।
কৃষকের জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে কখন কোন ফসল বা কোন জাত লাগানো উচিত, বিষয়গুলো নিয়ে কৃষক পর্যায়ে খুব বেশি সেবা দিতে না পারার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষকদের বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে পরামর্শ দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ