বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমনের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট: December 5, 2019, 1:13 am

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের একটি মাঠ থেকে ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে-সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমনের ফলন ভাল হলেও ধানের নায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষক। ধানের মূল্য এতটাই কম যে, উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে জানান কৃষকরা। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে, কৃষকরা আশানুরুপ ধানের দাম পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল প্রায় ৫১ হাজার ১’শ ৬১ হেক্টর জমি। তবে আমন চাষের শুরুতে কৃষকরা অনাবাদি জমি চাষাবাদের উপযোগী করে গড়ে তোলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮’শ ১৭ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছে। অর্থাৎ এবছর জেলার ৫২ হাজার ৯’শ ৭৮ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ধানের আবাদ করেছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২শ’ ২৫ মেট্রিক টন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ৩৯ হাজার ৩’শ ৭৫ ধান, নাচোলে ২২ হাজার ৫’শ ৭৮ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ১ হাজার ৬’শ ১, গোমস্তাপুরে ১৪ হাজার ৮’শ ৪৩ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ৭’শ ৯৪, ভোলাহাটে ৪ হাজার ২’শ ৪০ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ৮০ ও শিবগঞ্জে ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৩’শ ৭৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত ঝিলিমের ইসমাইলসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এবছর আমন ধানের উৎপাদন আশানারুপ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধান কাটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কৃষক রজু জানান, আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত এবং ফলনও হয়েছে ভালো।
নাচোলের কৃষক রুহুল আমিন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয়েছে ১৪/১৫ মণ এবং বিঘা প্রতি জমিতে ধান চাষে কৃষকের খরচ হয়েছে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। উৎপাদিত ১২০ মণ ধান থেকে ২০ মণ ধান মজুরি হিসেবে শ্রমিককে দিতে হয়। সেখানে সাড়ে ৬’শ থেকে ৬’শ ৪০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে লোকসান গুণতে হবে তাদের। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলালেও উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান কৃষক।
এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা বলেন, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮’শ ১৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে এবং ৮২ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ধান কেনা শুরু হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ