চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলনের আশা || পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানমালিক ও চাষিরা

আপডেট: মে ১৯, ২০১৮, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলো আমে আমে ভরে গেছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু আম আর আম। এ সময় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানমালিক ও চাষিরা। আমের ক্ষতিকর পোকার আক্রমন ঠেকাতে বালাইনাশক ওষুধ ব্যবহার করছেন আম চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায়ই সব আম গাছগুলোতে প্রচুর পরিমান আম ধরে আছে। গত ৩ সপ্তা আগে কয়েকদফা বৃষ্টিপাতের দরুন আমের আকার অনেকাংশে বড় হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ ভাগ বাগানে আম এসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, জেলায় এ বছর ২৯ হাজার ৫ শ ১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর এতে গাছের সংখ্যা ২২ লাখ ৭২ হাজার রয়েছে। তিনি আরো জানান, গত কয়েক বছরে ধরে কৃষকরা ধানের নায্য মূল্য না পাওয়া এবং আমের দাম ভাল পাওয়ায় অনেকেই আমচাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। আর এতে জেলায় আম চাষের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গত বছরের চেয়ে এবার জেলায় ৩ হাজার ৩ শ ৬০ হেক্টর বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় আমের আবাদ বেশী বেড়েছে। তিনি বলেন, আমের গুটি দেরিতে আসলেও; উৎপাদনে কোন প্রভাব পড়েনি। এই মুর্হুতে আমের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারও আমের বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরো জানান, গতবছর জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। আর গতবারের চেয়ে এবার বেশী আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর, শিবগঞ্জ, কানসাট, মনকষা, শাহাবাজপুরের বেশ কয়েকটি আম বাগান ঘুরে দেখা যায় আমে আমে ভরে গেছে বাগানগুলো। অনেক বাগান মালিক আম গাছের ডাল ভেঙে না যায়, সেজন্য বাঁশের খুটি লাগানোসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শিবগঞ্জের বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, তার বাগানে এবার বেশীর ভাগ গাছে আম এসেছে। সময় মত বৃষ্টি হওয়ায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
কানসাটের আমচাষি নুরুল ইসলাম জানান, দেরিতে আমের গুটি আসলেও এবং আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবার আমের উৎপাদন অনেক ভাল হয়েছে। আম নষ্টকারী ক্ষুদি ও হপার পোকা দমনে বাগানগুলোতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক ও পানি দিচ্ছেন আম চাষিরা। ছত্রাজিতপুরের আমবাগান মালিক হারুন অর রশীদ জানান, জটিলতার কারণে ফ্রুট ব্যাগিং এর মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদন করে বিদেশ না নেয়ায় গত বছর তিনিসহ অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চলতি আম মৌসুমে আগামী ২০ মে থেকে আমপাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়ার স্দ্ধিান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গোপাল ভোগসহ গুটি জাতের আম এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছ থেকে পাড়তে পারবে চাষিরা। সেই আলোকে এ মৌসুমে আমচাষি-আমব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসন গত ১৬ এপ্রিল রোববার বিষমুক্ত আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এবং আম বাজারজাতকরণে আম পঁঞ্জিকা হালনাগাদকরণ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়, আগামী ২০মে গুটি জাতের আম, ২৫ মে থেকে আগাম জাতের গোপালভোগ আম, ২৮ মে হিমসাগর ও খিরসাপাতা, লক্ষনভোগ ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বায় ৫ জুন, ১৫ জুন ফজলী ও সুরমা ফজলী ও আ¤্রপালি আম বাজাবজাতকরণ করা যাবে বলে একমত হন। পরবর্তীতে ১ জুলাই আশ্বিনা আম বাজারে আসবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যাণতত্ত্ব কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ও ফল গবেষক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে আমের গুটি আসতে কিছুটা দেরি হলেও; সময়ের ব্যবধানে আমের আকার অনেকটায় বড় হয়ে গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ