চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র শীতে দুর্ভোগে মানুষ || বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা


চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে শীতজনিত রোগ বেড়েছে-সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ১ সপ্তা ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেড়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।
বর্তমানে কুয়াশার চাদরে ঢাকা সকালে ঘর থেকে বের হতে পারছে না কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে তীব্র শীতে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। সর্দ্দি-কশি, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে ভুগছেন তারা। নি¤্ন আয়ের মানুষরা পড়েছে বেশ দুর্ভোগে। অভাবী ও ছিন্নমূল মানষেরা শীতের গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়া, গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নাদিম সরকার জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। এ অবস্থায় সরচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া বিভাগে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগির সংখ্যা। তবে এ সময় একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার কথা জানান। তিনি আরো জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত ১ সপ্তায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে প্রায় ৫ শতাধিক রোগি ভর্তি ও বহিঃর্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
এদিকে, তীব্র শীতে জেলা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার।
গৃহিনী আয়েশা বেগম জানান, বড়রা ঠান্ডা সহ্য করতে পারলেও, বৃদ্ধ ও শিশুরা মোটেও সহ্য করতে পারছে না।
বেলা ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন যানবাহনে দিনেও হেড লাইট ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়লে সূর্যের মুখ দেখার সাথে সাথে তাপে মানুষ গা এলিয়ে নিচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ফলে, ফুলকপিসহ বিভিন্ন শাক সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নি¤্ন আয়ের মানুষেরা শীত নিবারনের জন্য বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড় কিনছেন। যার যার সামর্থ অনুযায়ী লোকজন লেপ-কম্বল এবং শীতের গরম কাপড় কিনছেন। চায়ের দোকানগুলোতে চা পানের জন্য লোকের সমাগম বেড়ে গেছে।
চর আলাতুলির কৃষক তমিজ উদ্দিন জানান, কনকনে ঠান্ডায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে এ ঠান্ডায় ইরি- বোরোর আবাদ করতে কৃষাণ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও পাওয়া যাচ্ছে মজুরী বেশী লাগছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য ৩৪ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে ৪ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারও বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন শীতার্ত মানুষগুলোকে কম্বলসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ