চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দার ভাঙনে নদীগর্ভে একশ বিঘা ফসলি জমি || হুমকির মুখে সরকারি স্থাপনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর ইউনিয়নে মহানন্দার তীব্র ভাঙনে এভাবেই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি -সোনার দেশ

বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে মহানন্দা নদীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এরইমধ্যে দেবীনগর ইউনিয়নে মহানন্দার তীব্র ভাঙনে প্রায় ১শ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। তবে ভাঙন প্রতিরোধে এ মুহূর্তে কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চার ও পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তরফা ফেরিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গত এক সপ্তা ধরে ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে এলাকার প্রায় ১শ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে একতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেবীনগর উচ্চবিদ্যালয়, দেবীনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, দেবীনগর দাখিল মাদ্রাসাসহ তিনটি গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষের বসতভিটা।
দেবীনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, গত এক সপ্তা ধরে ভাঙনে ফসলি জমি হারিয়ে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আফজাল হোসেন জানান, যেভাবে মহানন্দায় ভাঙন চলছে, তা ঠেকাতে না পারলে এলাকার মানুষ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেবীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুর রাজ্জাক জানান, এ মুহূর্তে ভাঙন প্রতিরোধ না করলে দিলজাল হাজিটোলা, লাল মোহাম্মদ মুন্সিটোলা, বাসেদ মন্ডলের টোলা, ধূলাউড়িহাট গ্রামের কয়েকটি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহেদুল আলম জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এ মুহূর্তে ভাঙন প্রতিরোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।