বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪ শিবির কর্মী গ্রেফতার অপশক্তি এখনো সক্রিয় আছে

আপডেট: February 8, 2020, 12:06 am

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নামোশংকরবাটী হেফজুল কামিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাস থেকে জেলা ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহহিল কাফিসহ ১৪শিবির নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গান পাউডার, ৮টি ককটেল, ৬ টি হাসুয়া ও ৫টি জেহাদি বই উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপন বৈঠক করার সময় পৌর এলাকার শংকরবাটী ও আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার মেসে অভিযান পরিচালনা করে ওই ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
উগ্রবাদী রাজনৈতিক দল জামায়াত শিবিরের দৃশ্যমান কর্মসূচি তেমন না থাকলেও তারা ভিতর ভিতর সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। দলটির উগ্রপন্থা ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশই হারিয়েছে। তবে ওয়াবী মতবাদে বিশ্বাসীরা নেপথ্যে দলটিকে আবারো প্রকাশ্যে নিয়ে আসার জন্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ১৪ শিবির নেতা গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ পাওয়ার ঘটনা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার তাদের প্রস্তুতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
জামায়াতে ইসলামীর ইতোমধ্যেই নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানই শুধু নেয় নিÑ দলটির নেতাকর্মিরা বাঙালি গণহত্যায়, ধর্ষণ- ষুটপাট ও অগ্র্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। পাকিস্তানি বাহিনীকে পথ দেখিয়ে বাঙালি হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির শীর্ষ পযায়ের কয়েক নেতা আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আদালত দলটিকে ‘ক্রিমিনাল,’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
দেশ স্বাধীনের পরও জামায়াত- শিবির দেশের মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। হত্যা-সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে তারা দেশের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কিএনপিসহ কতিপয় দল গণতন্ত্রের লেবাসে উগ্র এই সাম্প্রদায়িক দলটিকে আশ্রয়- প্রশ্রয় দিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় শরিক করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা এই স্বাধীন দেশেই প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, স্পিকারের মত শীর্ষ পদগুলোতে বসেছে। কিন্তু এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও ওই অপশক্তিকে পরাভুত করেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন গর্তের মধ্যে লুকিয়ে আছে। সেখান থেকে বারবার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, নাশকতার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কিন্তু সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতার কারণে ওই জঙ্গি গোষ্ঠিকে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। মানবতাবিরোধী এই শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। তবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই কাজ নয়Ñ দেশের মানুষের সম্পৃক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ- যেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের এই জাগরণ কোনোভাবে শিথিল হলে চলবে না। এটা চালিয়ে যেতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ