চামড়ায় লোকসানের শঙ্কায় পচন যোগ

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নাটোরের আড়তে চামড়া নেয়ার প্রস্তুতি-সোনার দেশ

বিগত বছরের চেয়ে এবছর চামড়ার দাম কম। দাম কমের পরেও চামড়া ট্যানারিতে নিতে বিলম্ব করছে মালিকপক্ষরা। ফলে চামড়ায় পচনের আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা। একদিকে চামড়ার দাম কম, অন্যদিকে পচন। এনিয়ে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা।
গত বছরের চেয়ে চামড়ার দামে অনেকটাই ফারাক রয়েছে এবছর। নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার পরেও সপ্তাখানেকের খরচ মিলে টাকার অঙ্কটা দ্বিগুনে দাঁড়িয়েছে। সব খরচ ঝাঁপিয়ে চামড়া ব্যবসয়ীরা ট্যানারি মালিকদের সুবিধা মত দামে বিক্রি করতে পরবে কি এমন প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে দাম নিয়ে সন্দিহানের মধ্যেও ঢাকায় চামড়া পাঠাতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। যদিও ট্যানারি মালিকরা আগামিকাল শনিবার থেকে চামড়া কিনবে এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ঢাকার ট্যানারিগুলোতে চামড়া পাঠাতে শুরু করেছেন। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের বেশির ভাগ চামড়া বড় আড়ৎ নাটোরে জমা করা হয়েছে। সেখানে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা এসে চামড়া কিনবেন।
চামড়া পচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কিছু চামড়া পচন ধরেছে। তবে রাজশাহীতে চামড়ায় তেমন পচন ধরেনি। ঢাকাসহ অন্য অঞ্চলে কিছু চামড়ায় পচন ধরেছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া গরম ও দেরিতে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনায় পচন দেখা দিচ্ছে এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানায়, রাজশাহী অঞ্চলে তেমন চামাড়া পচেনি।
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছে, ঈদের দিন থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়াগুলো কিনে রাখে। তারা প্রাথমিক অবস্থায় চামড়ায় লবণ দিয়ে রাখে। পরে সুবিধা মত সময়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। অনেক সময় দেখা যায়, চামড়ায় লবণের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে পচে যায়। এছাড়া চামড়ায় মাংস বা চর্বির আবরণের জন্যও চামড়ায় পচন দেখা দেয়। পশু কোরবানির কয়েকদিন পর থেকে চামড়া বিক্রি শুরু হলেও এবছর ট্যানারি মালিকরা অনেকটাই দেরিতে কিনছেন। তাই চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
দেখা গেছে, রাজশাহীর বেলপুকুরের চমড়ার আড়ৎ থেকে ট্রাকের করে নাটোরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চামড়া। ব্যবসায়ীরা চামড়া নাটোরের বিভিন্ন ব্যবসয়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। এছাড়া কেউ কেউ রেখে দিচ্ছেন নিজে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করার জন্য। আবার কেউ পচনের আশঙ্কায় আগে ভাগে ট্যানারিতে পাঠাচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ