চার বিড়াল

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সাফিদ আল শামস তুরাগ


এক জায়গায় বাস করে চারটা বিড়াল। তারা হলো হাবিল, হাদি, ভদি, হাসিল। তাদের একটা গান ছিল । তার কিছু লাইন: আমরা চার বিড়াল, নয় বৃদ্ধ, নয় আবাল ! হাবিল হলো তাদের ক্যাপ্টেন। সে সব বিড়ালকে বেয়াদবি শেখায়। একদিন সে বলে, মিঁয়াউ মিঁয়াউ ! অর্থ্যাৎ গতকাল আমাদের সিনিয়র সার আসবেন ! ভদি এই শুনে বলে, মিঁয়াউ, মিঁয়াউ ! অর্থ্যাৎ হাবিল গতকাল তো পার হয়ে গেছে। কই সিনিয়র সার তো আসেনি। হাবিল বলে, মিঁয়াউ, মিঁয়াউ ! অর্থ্যাৎ কোন্ পাগল বলল সিনিয়র সার গতকাল আসবেন ? ভদি বলে, মিইয়াউ, মিইয়াউ ! অর্থ্যাৎ হাবিল তুই তো বললি। হাবিল লজ্জিত হয়ে বলে, মিঁয়াউ, মিঁয়াউ ! অর্থ্যাৎ সরি। ভুল হয়ে গেছে। সিনিয়র সার আগামীকাল আসবে। তাই সবাই সারের জন্য ভালো খাবার জোগাড় করবি যেমন:- দুধ, মাংস, কবুতর ইত্যাদি। সবাই বলল, ম্যাঁউ ! অর্থ্যাৎ ঠিকাছে। সবাই খাবার খুঁজতে বের হলো। হাবিল খাবার চুরি করতে একটি বাড়িতে ঢুকে। বাড়ির মালিক তাকে দেখে তার মাথার উপর লাঠি দিয়ে মারে। ফলে তার খাবার চুরি করা হয় না। তারপর ভদি আরেক বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই মিয়াউ বলে চিৎকার করে ওঠে। ফলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বাড়ির মালিক। ভদি ভাবে, আমি এত পাগল ! আগেই মিয়াউ বলে চিৎকার করে উঠলাম। ছি ! ছি ! ছি !
হাদি এক বাড়িতে ঢুকে পোষা কুকুর দেখে ভয় পেয়ে খাবারহীন খালি হাতে চলে যায়। হাসিল এক বাড়িতে কবুতর দেখে। সে কবুতরটিকে চুরি করতে যায়। কিন্তু কবুতরই তাকে ঠোকর মেরে বের করে দেয়। চার বিড়াল বাসায় চলে যায়। হাবিল বলে, কেউ কিছু খাবার পেলি ? সবাই বলে না। সবাই বলে হাবিল তুই খাবার পেলি ? না
– এখন কি হবে সিনিয়র স্যারের জন্য। কিছু খাবার পেলাম না। সবাই ভাবো কি করি এখন
ভদি: হাবিল, সিনিয়র স্যার কে বলব সব বাড়ির মালিকেরা আপনাকে খাবার দেয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে মাংস দিবে,দুধ দিবে, কবুতর দিবে।
হাবিল: হেব্বি আইডিয়া
ঠিক সময় সিনিয়র স্যার এলো। সবাই বললো, স্যার সবাই অপনাকে খাবার দোয়ার জন্য রেডি আছে
চলেন খেয়ে আসি
-চলো যায়
তিনি একটা বাড়িতে ঢুকলে বাড়ির মালিক তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। বাকি সব বিড়ালরা তা দেখে হাহা করে হাসে। সিনিয়র সার তা দেখে ক্ষেপে গিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে। সবাই অনেক জোরে দৌড়াতে লাগে। তা দেখে এক লোক তাদের বলে ভাই তোমরা দৌড়াচ্ছো কেন? তাও আবার এতো জোরে! সবাই লোকটিকে সব কথা খুলে বলে।
লোকটি বলে তোমাদের আর দৌড়াতে হবে না আমি তোমাদের সবার যত্ন নিবো। সবাই খুশি হলো।

সিনিয়র স্যার এলো। এসে যখন বিড়ালগুলোকে মারতে গেল তখন লোকটি বললো ওদের মারবেন না।
-কেন মারবো না ?
-কারণ এখন থেকে আমি ওদের খাবার দিবো।

[ ও কাঠপেন্সিলের ছোট্ট বন্ধু। ও পড়ে পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ]